শার্শায় কুকুরের কামড়ে এক সপ্তাহে আহত ১১০

যশোরের শার্শায় ও বেনাপোলে এক সপ্তাহে কুকুরের কামড়ে নারী-পুরুষসহ ১১০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত আক্রান্ত ১১০ জন শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। গণহারে কুকুরের কামড়ের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন-বেনাপোল পোর্ট থানার আমড়াখালী গ্রামের সেলিম রেজার ছেলে সোহান হোসেন (২৯), আকবার আলীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৪৫), মোরশেদ আলী (৫২), মহিউদ্দিন (৫৫), আবুল খায়েরের ছেলে কবির হোসেন (৩৫), আমির হোসেনের স্ত্রী আছিয়া খাতুন (৩৫), সিরাজের স্ত্রী বাছিরুন নেছা (৪৫), কাগমারী গ্রামের আরোয়া হোসেনের স্ত্রী আনোয়ারা খাতুন (৪৫) ও শার্শার আব্দুল বাকী (১৮), সাইমুন (২৫) সহ আরও অনেকে।

শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর তথ্যমতে- শার্শা ও বেনাপোলে গত আগস্ট মাসে ৪৮৩ জন ও চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে আরও ১১০ জন। এ নিয়ে মোট ৫৯৩ জন নারী-পুরুষ কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তৌফিক পারভেজ বলেন, আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পাশাপাশি জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। সবাইকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদানের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কুকুরের কামড় থেকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি আক্রান্ত হলে দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আমড়াখালী গ্রামের মোরশেদ আলী জানান, গত (১ সেপ্টেম্বর) সকালে একদল কুকুর সংঘবদ্ধভাবে আমড়াখালীর রেললাইন পার হয়ে গ্রামে ঢুকে আচমকা মানুষকে কামড়াতে থাকে। ওই কুকুরের দলটি সামনে যাকে পেয়েছে তার ওপর আক্রমণ চালায়। এক ঘণ্টার ব্যবধানে কুকুরগুলো প্রায় ২০ জনকে কামড়িয়ে জখম করেছে। আহতদের শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা নিয়েছে। কুকুরের ভয়ে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। ভয়ে অনেকে বাড়ি থেকে বের হচ্ছে না। এমনকি কুকুরের ভয়ে তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে পারছেন না। তারা কুকুর নিধনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শার্শা উপজেলা প্রশাসন ও বেনাপোল পৌর প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

শার্শা উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার তপু কুমার সাহা জানান, বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব সাধারণ মানুষের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কুকুরের কামড় খুবই বিপজ্জনক। জলাতঙ্ক রোগ হলে মৃত্যু অনিবার্য। এ জন্য কুকুর কামড়ালে তাকে অবশ্যই ভ্যাকসিন দিতে হবে। এছাড়া বাড়ির পোষা প্রাণীকে এন্টি র‌্যাভিস ভ্যাকসিন দিতে পরামর্শ দেন তিনি।