ময়মনসিংহের গৌরীপুর-বেখৈরহাটি আঞ্চলিক সড়কে যানবাহন চলাচলে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে এই বর্ষায় সড়কের কার্পেটিং উঠে ম্যাকাডেম নষ্ট হয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোন কোন জায়গায় কার্পেটিং উঠে যায়। স্থানীয়রা বলছে, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার না করায় সড়কের করুণ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সাধারণ যাত্রীরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গৌরীপুর টু বেখৈরহাটি ১৪ কিলোমিটার সড়কের সবচেয়ে বেহাল দশা মাওহা ইউনিয়ন ভূমি অফিস (বীর আহাম্মদপুর কাচারী বাজার) লংকাখোলা আলিয়া মাদ্রাসা, গাগলা পল্লী বিদুৎ এর সামনের অংশে। এ অংশের বিভিন্ন জায়গায় বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
বীরআহাম্মদপুর থেকে পৌর শহরের টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার সড়কের প্রায় মাওহা ইউনিয়ন, অচিন্তপুর ইউনিয়ন, বোকাইনগর অংশে বেশীর ভাগ অংশে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
বর্তমানে সড়কটির বেহাল দশার কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে না ধরনের ছোট বড় দুর্ঘটনা। পৌর শহরের বালুয়াপাড়া ও শাহগঞ্জ গাগলা নামক দুটি স্থানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা রাস্তা সংস্কার করলেও বাকী রাস্তা সংস্কার করা হয়নি।
বর্তমানে রাস্তার বেহাল দশার কারণে পার্শ্ববর্তী গৌরীপুরের পূর্বাঞ্চলসহ নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া, আটপাড়া, মদন, খালিয়াজুড়ি উপজেলাসহ ময়মনসিংহ, ঢাকা, ভৈরব, সিলেট অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। দফায় দফায় সড়কটি সংস্কার করা হলেও অনিয়ম দূর্নীতির কারণে সড়কটি টেকসই হচ্ছেনা। ফলে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট বড় খানাখন্দ ও জলাবদ্ধতায় প্রায় যানবাহন চলাচলে অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
পৌর এলাকার বালুয়াপাড়া বাজার থেকে পূর্ব দিকে বোকাইনগর ইউনিয়ন অংশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির কারণে গর্তগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
পথচারী আব্দুল আলিম বলেন, এ রাস্তা খালে পরিণত হয়েছে। মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়া আসার সময় রাস্তায় জমে থাকা কাদায় জামা-কাপড়ে লাগে। তিনি স্থানীয় প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্ট আকর্ষণ করেন।
আটপাড়া উপজেলার মিনিট্রাক চালক আমিনুল ইসলাম বলেন, আমি প্রতিদিন মাছের গাড়ী নিয়ে গাজীপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় মাছ নিয়ে চলাচল করি এই রাস্তা দিয়ে। কখনো কখনো এই খানা-খন্দে ভরা সড়কে মাছের ড্রাম উল্টে পরে যায়।
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাস্তা দিয়ে শত শত গাড়ি চলাচল করে, কিছু গাড়ি আটকে গিয়ে বড় বড় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এমনকি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় প্রকৌশলী (এলজিইডি) অফিস সুত্রে জানা গেছে জিওবি প্রকল্পের আওতায় ২০২০ সালে ৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কারকাজ শুরু করে জামির ট্রেডার্স নামের ঠিকাধারী প্রতিষ্ঠান। তবে কাজের মান নিন্মমানের হওয়ায় বেশী দিন টেকসই করেনি।
এবিষয়ে গৌরীপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. আমিনূল ইসলাম জানান, এস্টিমেট করে জরুরি ভিত্তিতে একটি প্রকল্প স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। অর্থ পেলে টেন্ডার করা হবে।