ফেনীর সোনাগাজীতে আগুনে পুড়িয়ে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ১১২ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ হয়। গত ২৪ আগস্ট বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কেএম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ রায় দিয়েছিল। পূর্ণাঙ্গ রায়টি লিখেছেন বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারক কেএম রাশেদুজ্জামান রাজা। তাতে একমত পোষণ করেছেন জ্যেষ্ঠ বিচারক ভীষ্মদেব চক্রবর্তী। ১৬ জনের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদ-াদেশ অনুমোদন) আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি শেষে হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়।
ফেনীর অধস্তন আদালতে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত ১৬ জনের মধ্যে দুজনের সাজা বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। এ ছাড়া অধস্তন আদালতে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত চারজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন এবং বাকি ১০ জনকে খালাস দিয়েছে হাইকোর্ট। মৃত্যুদ-াদেশ বহাল থাকা দুই আসামি হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা, তার সহযোগী ও ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেন শামীম। যাদের মৃত্যুদ- কমে যাবজ্জীবন হয়েছে তারা হলেন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নুর উদ্দিন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ও জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন।
খালাসপ্রাপ্তরা হলেন সোনাগাজীর সাবেক পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আব্দুল কাদের, প্রভাষক আবছার উদ্দিন, শিক্ষার্থী কামরুন নাহার মনি, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মোহাম্মদ শামীম, মহি উদ্দিন শাকিল ও সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) তৎকালীন সভাপতি মাদ্রাসার গভর্নিং বডির তৎকালীন সহসভাপতি রুহুল আমিন।
২০১৯ সালে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ এ মামলায় ১৬ আসামির সবাইকে প্রাণদ-াদেশ দিয়ে যে রায় দিয়েছিলেন তার যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে হাইকোর্ট বলে, ওই রায়ে বিচারক মামুনুর রশিদ তার বিচারিক মানসিকতা ও বিচারিক বিবেচনাবোধ প্রয়োগ করেননি। এ কারণে তাকে ফৌজদারি মামলা পরিচালনা থেকে বিরত রাখার ব্যবস্থা নিতে আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।