আলকারাজকে হারালো ইউএস ওপেন

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্ল্যাশিং মিডোজের আকাশে তখন গভীর রাত, নিউইয়র্কের কোর্টে ঘড়ির কাঁটা পেরিয়ে গেছে স্বাভাবিক সীমা, ঠিক এমন এক রোমাঞ্চকর ও ইতিহাসগড়া রাতে টেনিস বিশ্ব দেখল এক মহানাটকীয় রূপান্তর। ইউএস ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে টুর্নামেন্টের অন্যতম হট ফেভারিট কার্লোস আলকারাজকে অবিশ্বাস্য এক থ্রিলারে ধূলিসাৎ করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের তারকা বেন শেলটন।

দীর্ঘ ৪ ঘণ্টা ২৮ মিনিটের এই ম্যারাথন লড়াইয়ে স্প্যানিশ সেনসেশন আলকারাজকে ৬-৭ (৫), ৬-১, ৬-৩, ১-৬, ৭-৬ (৭) সেটে হারিয়ে শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করেছেন শেলটন। আর এই জয়ের সুবাদে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে স্বদেশি ফ্রান্সিস টিয়াফোর মুখোমুখি হতে চলেছেন তিনি।

ম্যাচটির পরিসংখ্যান যতটা না রোমাঞ্চকর, তার চেয়েও বেশি নাটকীয় ছিল এর প্রতিটি মুহূর্ত। প্রথম সেটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর টাইব্রেকারে হেরে পিছিয়ে পড়লেও দুর্দান্তভাবে কামব্যাক করেন শেলটন। পরের দুই সেটে আলকারাজকে পাত্তাই না দিয়ে টানা ৬-১ ও ৬-৩ গেমে জিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নেন এই আমেরিকান।

তবে সহজে হার মানার পাত্র ছিলেন না আলকারাজ। চতুর্থ সেটে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেলটনকে পাত্তাই না দিয়ে ৬-১ গেমে সেট জিতে ম্যাচ নিয়ে যান ফাইনালাইজিং সেটে। পঞ্চম ও শেষ সেটে দুই তারকার কেউ কাউকেও ব্রেক করার সুযোগ দেননি, ফলে ম্যাচ গড়ায় রোমাঞ্চকর টাইব্রেকারে। যেখানে স্নায়ুচাপ ধরে রেখে শেষ পর্যন্ত ১০-৭ পয়েন্টে জয় ছিনিয়ে নেন শেলটন।

ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছিল শেলটনের সেই অপ্রতিরোধ্য সার্ভিস। পুরো ম্যাচ জুড়েই যার একক আধিপত্য ছিল, সেই প্রথম সার্ভিসের ৭০ শতাংশ পয়েন্টই নিজের ঝুলিতে পুড়েন তিনি। বিশেষ করে ১৪৬ মাইল বেগে করা একটি আউট-ওয়াইড সার্ভিস দিয়ে যখন জয় নিশ্চিত করেন, তখন গ্যালারিতে উল্লাসের জোয়ার বয়ে যায়।

ম্যাচ শেষে দর্শকদের সমর্থন ও গভীর রাতেও গ্যালারিতে উপস্থিত থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বেন শেলটন বলেন, ‘আমার জন্য সবসময়ই গ্যালারির মানুষগুলো বিশেষ কিছু. তা সে আমার কোচ ও টিম হোক, পরিবার-বন্ধুরা হোক কিংবা নিউ ইয়র্ক শহর, যারা আজ রাত ৩টা পর্যন্ত মাঠে উপস্থিত ছিল। সেটাই আমাকে আজ লড়ে যাওয়ার শক্তি জুগিয়েছে।’ 

নিউইয়র্ক শহরের প্রতি নিজের মুগ্ধতা প্রকাশ করে এই তারকা আরও বলেন, ‘এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। আমি সবসময়ই বলে এসেছি, এটি বিশ্বের সেরা ক্রীড়া শহর এবং এটি বিশ্বের সেরা স্টেডিয়াম। আমি শুধু আশা করছি, আমার সেরা বন্ধু ও বোনের সকাল ৬টায় কাজে যেতে হবে না। তাদের বস যদি তাদের আজকের দিনটা ছুটি দেন, তবে সেটা ভীষণ দারুণ হবে।’

পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, আলকারাজ ৩টি শট বেশি উইনার মারলেও তার ৫৩টি আনফোর্সড ইরর বা ভুলই শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে শেলটনের ভুল ছিল ৩৫টি। চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের তারকার জেদি মানসিকতারই।

কবজির ইনজুরি থেকে সেরে উঠে নিউইয়র্কের এই গ্র্যান্ড স্লামে কোর্টে ফিরেছিলেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই শেষ আটে এমন বিদায়ে স্প্যানিশ তারকার হতাশ হওয়ার কথা। তবে ম্যাচ শেষে কোর্ট ছাড়ার সময় তাকে খুব একটা ভেঙে পড়তে দেখা যায়নি; বরাবরের মতোই চনমনে মেজাজে ভক্তদের অভিবাদনের জবাব দিয়েছেন তিনি।