দেশে ভালো নির্বাচনের সংস্কৃতি চালু করতে চান বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়ামে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স আয়োজিত দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। নির্বাচনী দায়িত্ব পেশাদারত্বের সঙ্গে পালনের লক্ষ্যে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক) ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন এবং অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত আইজি, রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটের এসপি ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সিইসি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্তমানে বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই নির্বাচনের পরিবেশ পুলিশ সদস্যরাই তৈরি করেছেন। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের যে ধারা চালু হয়েছে, তা অব্যাহত রাখতে পুলিশকে সচেষ্ট থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব। একইভাবে নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করাও পুলিশের আইনি দায়িত্ব।
সিইসি বলেন, নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষের যে আস্থা নষ্ট হয়েছিল, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে তার অধিকাংশই পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনও একই মানদণ্ডে সম্পন্ন করতে পুলিশকে কাজ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, নির্বাচন পরিচালনার সাংবিধানিক দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। বাংলাদেশ পুলিশ নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ও আইন অনুযায়ী নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
বর্তমান সময়ে নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির গুরুত্ব বাড়ছে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, মিথ্যা তথ্য ও অপতথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা মোকাবিলায় পুলিশকে সচেষ্ট থাকতে হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের দিকনির্দেশনা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতা এবং পুলিশের সব পর্যায়ের সদস্যদের পেশাদারত্ব ও নিষ্ঠার সমন্বয়ে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার নির্বাচনসংক্রান্ত রোডম্যাপ ও একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।
উল্লেখ্য, আগামী ১৬ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ পুলিশের ১১৪টি ভেন্যুতে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ শুরু হবে। এতে কনস্টেবল থেকে তদূর্ধ্ব পর্যায়ের প্রায় ৩৯ হাজার পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সিইসি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে পুলিশকে কোনো বেআইনি নির্দেশ দেওয়া হবে না।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অঙ্গীকার রয়েছে। জাতীয় নির্বাচন যেভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে, একইভাবে অন্তত সেই মান বজায় রেখে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করতে চান তারা।