বারবার প্রকল্পে মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি রোধে কঠোর নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

বারবার উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা রোধে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংসদে সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী উন্নয়ন প্রকল্পে বিলম্ব ও ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণগুলো চিহ্নিত করার কথা জানান এবং তা নিরসনে সরকারের একাধিক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।

সংসদে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণত একটি কারণে হয় না। যথাযথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষাসংক্রান্ত দুর্বলতা, ব্যয় প্রাক্কলনে ভুল, জমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তরে বিলম্ব, ক্রয় প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, সময়মতো প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ না দেওয়া, দুর্বল মনিটরিং এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের অভাবের কারণে এই সমস্যাগুলো তৈরি হয়।

এসব সমস্যা নিরসনে সরকার ইতোমধ্যে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। নতুন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে সঠিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা নিশ্চিত করা, অনুমোদনের পর বাস্তবায়ন প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করা এবং বিদ্যমান প্রকল্প নির্দেশিকা সময়োপযোগী করতে সংশোধনের কার্যক্রম চলছে।

বাস্তবায়ন তদারকি জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোতে ড্যাশবোর্ড স্থাপন, নিয়মিত পর্যালোচনা এবং মাঠপর্যায়ে নিবিড় মনিটরিং নিশ্চিতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যেসব প্রকল্প সময়মতো শেষ হয়নি, সেগুলোর অনিয়ম ও বিলম্বের কারণ নিরূপণ করে দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

যেসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৩০ শতাংশের কম, সেগুলোর উপযোগিতা বিবেচনা করে পুনর্বিন্যাস বা নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্রয় প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও অর্থবহ করতে ই-জিপি (e-GP) ব্যবহারের সম্প্রসারণ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল ২০২৫ হালনাগাদ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ, সমন্বিত গুচ্ছ প্রকল্প গ্রহণ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেলে জোর দেওয়ার মাধ্যমে উন্নয়ন কাজে শৃঙ্খলা আনার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।