জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা আমাদের সকলের দায়িত্ব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরতে এ ধরনের স্মৃতি সংরক্ষণ ও জাদুঘরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আজ বেলা ১১টায় রাজধানীর জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।
এর আগে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি এবং স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালকসহ রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ রাষ্ট্রপতিকে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে স্বাগত জানান।
এ সময় রাষ্ট্রপতির সাথে তাঁর সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন ।
রাষ্ট্রপতি জুলাই জাদুঘরে দর্শনার্থী টিকেট সংগ্রহ করে প্রবেশ করে লংওয়াক টু ডেমোক্রেসি ওয়াকওয়ে দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার বিভিন্ন ধাপের ঐতিহাসিক চিত্র অবলোকন করেন এবং দীর্ঘ ১৬ বছর ফ্যাসিবাদী শাসনে শহীদ হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণে নির্মিত মেমোরিয়াল ও রেপ্লিকা আয়নাঘর ঘুরে দেখেন।
রাষ্ট্রপতি জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনের পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপর নির্মিত একটি সংক্ষিপ্ত প্রামাণ্যচিত্র দেখেন।
এসময় তিনি বলেন, ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি। গণতন্ত্র ফেরত পেয়েছি, কিন্তু মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি। রাষ্ট্র কখনোই এই শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের ঋণ শোধ করতে পারবে না। এ দেশে যেন আর কোনো দিন এ ধরনের মর্মান্তিক ও নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ না ঘটে।
এছাড়াও রাষ্ট্রপতি জাদুঘরের বিডিআর ম্যাসাকার, শাপলা ম্যাসাকার, নির্যাতন সামগ্রী, জোরপূর্বক গুমের সেকশনগুলো ঘুরে দেখেন। সেসময় শহীদদের চিঠি, স্মারক ও স্মৃতিচিহ্ন দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
জুলাই অভ্যুত্থানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও ছাত্র-জনতার সংগ্রামের অংশগুলো ঘুরে দেখেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের আত্মত্যাগকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ও আত্মোৎসর্গকারী ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
এসময় তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত সকলের দ্রুত সুস্থতা ও কল্যাণ কামনা করেন এবং তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে জাদুঘর প্রাঙ্গণে একটি বৃক্ষরোপণ করেন।
পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রপতিকে জাদুঘরের বিভিন্ন স্থাপনা ও দলিলপত্রের বিষয়ে ব্রিফ করেন জুলাই জাদুঘরের গবেষণা দলের সদস্য জুবায়ের ইবনে কামাল ও ফারহান মাসুদ।
পরিদর্শন শেষে রাষ্ট্রপতি জাদুঘরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিববৃন্দের পাশাপাশি এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন জুলাই জাদুঘর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, আবরার ইলিয়াস এবং মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ।