দেশের অডিও বাজারে বাড়ছে রেষারেষি ও অন্তর্কোন্দলের ঘটনা। পাশাপাপশি ঘটছে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের ঘটনাও। সেই ধারাবাহিকতায় এবার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন দুই অডিও প্রতিষ্ঠানের মালিক। সম্প্রতি সংগীত প্রযোজনা ও বিতরণ প্রতিষ্ঠান ‘পি টিউন স্টুডিও’র স্বত্বাধিকারী পরাগ কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে নরসিংদী আদালতে একটি সিআর মামলা (নম্বর: ১৪১০/২০২৬) দায়ের করেছেন ‘বিডি ২৯ মাল্টিমিডিয়া’র স্বত্বাধিকারী মো. জসিম উদ্দিন (আকাশ)। আদালতের নির্দেশে মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করছে। তবে মামলায় উল্লেখিত সব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন পরাগ বিশ্বাস। তার অভিযোগ, বিষয়টি আদালতে তদন্তাধীন থাকা সত্ত্বেও বাদী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে অনবরত বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে তাকে সামাজিকভাবে হেয় এবং মানসিকভাবে হেনস্তা করছেন। মূলত তার ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই পরিকল্পিতভাবে এই অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
দুই প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে পরাগ জানান, ২০২২ সালের ২০ ডিসেম্বর উভয় পক্ষের স্বাক্ষরিত একটি ডিজিটাল সংগীত বিতরণ চুক্তিপত্রের মাধ্যমে তাদের নিয়মিত ডিজিটাল সংগীত বিতরণ সম্পর্কের সূচনা হয়। জসিম উদ্দিন নিজে শর্তাবলি বুঝে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। চুক্তি মেনে নির্ধারিত সময়ে প্রতি মাসের হিসাব-বিবরণী ও প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে, যার সব ইনভয়েস ও ব্যাংক লেনদেনের নথিপত্র তার কাছে নিরাপদে সংরক্ষিত রয়েছে। এমনকি দুই বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল ‘Believe International’-এর এর ট্রান্সফার দলিলে ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাদী তার সম্পূর্ণ ক্যাটালগের নিয়ন্ত্রণ বুঝে নেন। পরাগ বিশ্বাস জানান, তিনি ২০২৬ সালের ২৪ আগস্ট আইনি নোটিশটি হাতে পান। নোটিশে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আহসান আলীর মাধ্যমে বিস্তারিত ও দলিলভিত্তিক জবাব প্রস্তুত করে ৩০ আগস্ট রেজিস্ট্রি ডাকযোগে (এ/ডি) ও ইমেইলে পাঠানো হয়।
বিডি ২৯ মাল্টিমিডিয়ার স্বত্বাধিকারী জসিম উদ্দিন এর বিরুদ্ধে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেছেন পরাগ বিশ্বাস। তার ভাষ্য, জসিম তার প্রযোজিত একটি চলচ্চিত্রে তাকে কেন্দ্রিয় চরিত্রে অভিনয় করানোর প্রলোভন দেখিয়ে পরে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করিয়ে বিশ্বাস ভঙ্গ ও সঠিক পারিশ্রমিক না দিয়ে কাজ করানোয় ২০২৩ সালের ২৭ জানুয়ারি তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর কাজ না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। এরপর থেকেই জসিম তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের ক্ষতিসাধন ও মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে আসছিলেন। পাশাপাশি পি টিউন স্টুডিওর সঙ্গে যাতে অন্য শিল্পীরা কাজ করতে না পারেন, সেজন্য কয়েকজন শিল্পীকে জোরপূর্বক দলিলে স্বাক্ষর করানো হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
মামলার এজাহারে বর্ণিত তথ্যের মারাত্মক অসঙ্গতি তুলে ধরে পরাগ বলেন, এজাহারে দাবি করা হয়েছে যে ২০২৬ সালের ২৮ আগস্ট ৩ ঘটিকায় জসিম উদ্দিন এর নরসিংদীর বাড়িতে একটি বিরোধ নিষ্পত্তির বৈঠক চলাকালে তিনি হুমকি প্রদান করেছেন। অথচ বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। উক্ত দিনটি ছিল সরকারি ছুটির দিন এবং সে সময় তিনি নরসিংদীতে নয়, বরং চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গায় অবস্থিত 'পি টিউন স্টুডিও'র প্রধান কার্যালয়ে ছিলেন। সেখানে তিনি সহকর্মীদের নিয়ে একটি সাপ্তাহিক ভ্রমণ সভার আয়োজন করেন এবং দুপুর ২টা ২৯ মিনিটে কার্যালয় ত্যাগ করেন। উক্ত সময়ে চুয়াডাঙ্গায় তার অবস্থানের যাবতীয় সুনির্দিষ্ট ও অকাট্য প্রমাণাদি তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদের বিষয়টি প্রসঙ্গে পরাগ বলেন, কোনো গণমাধ্যম আমার সঙ্গে কথা বলেনি। অথচ এমন নিউজের ক্ষেত্রে অবশ্যই আমার বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন ছিল।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরু করা ‘পি টিউন স্টুডিও’ একটি অনুমোদিত সংগীত প্রযোজনা ও বিতরণ প্রতিষ্ঠান, যা দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে সংগীত প্রযোজনা, বিতরণ ও স্বত্ব ব্যবস্থাপনার কাজ করে আসছে।