পূর্ণবয়স্ক মানুষের শরীরের সব কোষের ডিএনএ যদি একসঙ্গে জোড়া দেওয়া হয়, তাহলে মোট দৈর্ঘ্য হবে পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্বের অনেক বেশি। একজন মানুষের শরীরের সব ডিএনএ জোড়া দিলে যে দৈর্ঘ্য হবে, তা দিয়ে পৃথিবী থেকে সূর্য পর্যন্ত চারশ বারের বেশি যাতায়াত সম্ভব। ডিএনএর মোট ওজন প্রায় ১০০ গ্রাম। শরীরের একটি কোষের নিউক্লিয়াসের ভেতর থাকা ডিএনএর দৈর্ঘ্য ২ মিটার। পূর্ণবয়স্ক মানুষের শরীরে আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৭ ট্রিলিয়ন কোষ থাকে। সব কোষের ডিএনএ যদি টেনে লম্বা করে একটির সঙ্গে আরেকটি জোড়া দেওয়া হয়, তবে মোট দৈর্ঘ্য দাঁড়াবে প্রায় ৬০-৭৪ বিলিয়ন কিলোমিটার। যেটি পুরো সৌরজগতের ব্যাসের চেয়ে বড়। মাত্র একটি কোষের ডিএনএতেই আছে শরীর গঠনের ‘ব্লুপ্রিন্ট’। অবাক করা ব্যাপার হলো, এই বিশাল দৈর্ঘ্যরে ডিএনএ এতটা নিখুঁতভাবে গুটানো যে, তা একটি ক্ষুদ্র কোষের ভেতরে থাকে। অর্থাৎ আপনি শুধু একজন মানুষ নন, নিজেই চলমান ‘মহাবিশ^’, যার ভেতর লুকিয়ে আছে অবিশ্বাস্য তথ্য, গঠন এবং জটিলতা। ডিএনএতে যে তথ্য রয়েছে তা যদি লিপিবদ্ধ হয়, তাহলে তা হবে ৯০০ খণ্ডের বিশালাকার এনসাইক্লোপিডিয়ার সমান। সহজভাবে বললে, এটি দেখতে একটি প্যাঁচানো সিঁড়ি বা মইয়ের মতো। ডিএনএতে চার প্রকারের নাইট্রোজেনাস বেস থাকে। সেগুলো হলো A- (অ্যাডেনিন), G (গুয়ানিন), C (সাইটোসিন) এবং T (থাইমিন)। এরাই জীবনের বর্ণমালা। এই চারটিতেই লেখা হয়েছে সব প্রাণের মহাকাব্য।