মনের যত্নই ঠেকাতে পারে আত্মহত্যা

১৫ বছরের তাওহীদ কৌতূহল আর ‘জাস্ট ফান’ করতে গিয়ে সহপাঠীকে অশালীন ভিডিও পাঠায়। নিষেধ করার পরও একই কাজ করায় তার বিরুদ্ধে স্কুলে অভিযোগ যায়। স্কুল থেকে জানানো হয়, গর্হিত অপরাধের কারণে তাকে বহিষ্কারও করা হতে পারে। সালিশের আগেই বাবা-মায়ের তোপের মুখে পড়ে তাওহীদ। ছেলের কাছে মায়ের প্রশ্ন এমন সন্তানের কারণে সমাজে মুখ দেখাব কী করে? ছেলের কাছেও এ মায়ের প্রশ্নের কোনো জবাব ছিল না। কিশোর মন ভেবেছে, তাহলে তার আত্মহত্যা করা ছাড়া উপায় নেই। একদিন পর তাওহীদের ঘরের বন্ধ দরজায় ডেকে সাড়া না পেয়ে ভেঙে তাকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর জানা যায়, ঘুমের ওষুধ খেয়ে অচেতন হয়েছিল তাওহীদ। প্রাণে বাঁচলেও দীর্ঘদিন অস্বস্তিতে কাটে তার। বন্ধুদের সামনে যেত না এমনকি বাবা-মায়ের সঙ্গেও স্বাভাবিক হতে পারছিল না।

বিশ্লেষকদের মতে, অনেক আত্মহত্যার ঘটনাই সময়মতো হস্তক্ষেপে ঠেকানো সম্ভব। বিশেষ করে কম বয়সে ব্যর্থতা, অপরাধবোধ বা অপমানের অনুভূতি তৈরি হলে কিশোর-কিশোরীরা পরিস্থিতিকে অসহনীয় মনে করতে পারে। তখন আত্মহত্যাকে অনিবার্য ভাবেন তারাই, যারা মনে করেন এই বিপদে তাদের পাশে কেউ নেই, এমনকি বাবা-মাও না। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাবা-মা যদি বিপদগ্রস্ত বা অসহায়ত্বের শিকার সন্তানকে এই বোধটুকু দিতে পারেন যে, তার যেকোনো পরিস্থিতিতে তারা পাশে আছেন এবং সবাই মিলে যেকোনো সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান সম্ভব, তাহলে আত্মহনন প্রতিরোধ সম্ভব। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মেঘমল্লার বসু গত সোমবার ফেসবুকে বিষাদ, হতাশা, অপরাধবোধ ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা তুলে একটি পোস্ট দেন, যাতে আত্মহত্যার ইঙ্গিত ছিল। পোস্টটি দেখে বন্ধুরা তার খোঁজ শুরু করেন। পরে মধ্যরাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পাকস্থলী ওয়াশের পর শঙ্কামুক্ত হন তিনি। এর আগে ফেব্রুয়ারিতেও অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খাওয়া অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

মেঘমল্লার বসুর সহপাঠীরা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হতাশায় ভুগছেন। আগের ঘটনার পর বন্ধুরা নানা উপায়ে তাকে মানসিকভাবে সাহস জুগিয়েছিলেন। কিন্তু পরে তিনি আবার ভেঙে পড়েন। এবারও বন্ধুরা তাকে মানসিক সাহস জুগিয়ে যাচ্ছেন।     

এ রকম মানসিক সমস্যাসহ নানান সংকটে থাকা একজন মানুষের পাশে যদি সময়মতো দাঁড়ানো যায়, তার কথা শোনা যায় এবং তাকে একা না হতে দেওয়া যায়, তাহলে আত্মহননের মতো পথ থেকে ফেরানো সম্ভব। যারা আত্মহত্যা নিয়ে কাজ করেন, তারা বলছেন দুই ধরনের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। একটি হচ্ছে যারা আগে থেকে পরিকল্পনা করে এবং সুইসাইড নোট লিখে আত্মহত্যা করেন। আরেকটি হচ্ছে হুট করে করণীয় নির্ধারণ না করতে পেরে আবেগের বশে আত্মহত্যা। মনোরোগ চিকিৎসকরা বলছেন, চিকিৎসা ও কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে দুটোই প্রতিরোধ করা সম্ভব।  

ঢাকা মেডিকেল কলেজের মানসিক রোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. নূর আহমেদ গিয়াসউদ্দিন বলেন, আগে থেকে মানসিক রোগে ভোগা এবং হঠাৎ আবেগের বশে মানুষ আত্মহত্যা করে। তবে দুটোই প্রতিরোধ করা সম্ভব। প্রথমত, মানসিক রোগে ভোগা, হতাশাগ্রস্ত ও সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিৎসা দিতে হবে। নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী থেরাপি নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, যারা বেশি আবেগপ্রবণ, হঠাৎ মন খারাপ হয় আবার হঠাৎ উৎফুল্ল হয়ে ওঠেন, তাদেরও ওষুধ ও সাইকোথেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। তাদের সব সময় কাউন্সেলিং করতে হবে, মানসিক সাহস জোগাতে হবে।

তিনি বলেন, কেউ আত্মহত্যার চেষ্টা করতে চাইলে তার আগের আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা সময়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় তার মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা যায়। তখন তার কাছে দ্রুত যেতে হবে, কথা বলতে হবে, কথা শুনতে হবে এবং তাকে সময় দিতে হবে। সংকটের ওই মুহূর্তে দ্রুত সময় ও মানসিক সহায়তা দিতে পারলে আত্মহননের পথ থেকে ব্যক্তিকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

আত্মহত্যা প্রতিরোধ সম্পর্কে বৈশ্বিক সচেতনতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করতে প্রতি বছর ১০ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়ে আসছে। ‘আত্মহত্যাবিষয়ক প্রচলিত ধারণা পরিবর্তন’ এই প্রতিপাদ্যে আজ বৃহস্পতিবার অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বিশে^ প্রতি বছর ৭ লাখেরও বেশি মানুষ আত্মহত্যা করেন। তদুপরি যত মানুষ আত্মহত্যা করেন, তার চেয়ে ২০ গুণ বেশি মানুষ ‘আত্মহত্যার চেষ্টা’ করেন। ১৫-২৯ বয়সীদের মধ্যে বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ ‘আত্মহত্যা’। এ ছাড়া বিশ্ব আত্মহত্যার ৭৭ শতাংশ ঘটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোয়।  

আত্মহত্যা প্রতিরোধ প্রসঙ্গে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, তিনটি উপায়ে আত্মহত্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব। প্রথমত, মানসিক সমস্যায় ভোগা বা হতাশায় থাকা ব্যক্তিরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নানা ইঙ্গিত দেন। মুখে তীব্র বিষন্নতার কথা বলেন, ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। এসবকে উপহাস বা ব্যঙ্গ না করে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে মনোচিকিৎসকের কাছে নিয়ে তার যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, তরুণদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি। তাদের কীভাবে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, মনের যতœ নিতে হবে, সে বিষয়ে সচেতন করা গেলে তারা নিজেরাই আত্মহননের পথ থেকে ফিরে আসতে পারে। তৃতীয়ত, শৈশব থেকেই সামাজিক জ্ঞান ও প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার শিক্ষা দিতে হবে। এতে বিপদে পড়লে একজন ভেঙে না পড়ে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে লড়াই করে তা থেকে বেরিয়ে আসার সক্ষমতা অর্জন করবে। 

শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করা আঁচল ফাউন্ডেশনও শিক্ষার্থী আত্মহত্যা প্রতিরোধে নিয়মিত কাউন্সেলিং, অভিভাবক-শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং ঝুঁঁকিতে থাকা শিক্ষার্থীদের যথাযথ মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

আত্মহত্যা প্রতিরোধে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ওপর গুরুত্বরোপ করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এমএ মুহিত বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে কথা বলা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জীবনের নানা উত্থান-পতন ও চ্যালেঞ্জ মানুষ যখন একা মোকাবিলা করতে থাকে, তখন তার ওপর মানসিক চাপের ভার বাড়তে থাকে। প্রান্তিক পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের একজন মানুষ উদ্বেগ, বিষন্নতা বা আত্মহত্যার চিন্তার মতো সমস্যায় পড়লে কোথায় এবং কার কাছে যাবেন, সে বিষয়ে অনেক সময় কোনো ধারণাই থাকে না। এই ঘাটতি পূরণে সরকার কমিউনিটি মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও তিনি জানান।

আশাহীন মানুষের মধ্যে আশা জোগাতে হবে : কয়েকজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আত্মহত্যা হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; অনেক ক্ষেত্রেই এর আগে মানুষ তীব্র মানসিক সংকটের মধ্য দিয়ে যায়। তবে আত্মহত্যা প্রতিরোধযোগ্য। মানসিক রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ও আগে থেকেই এগুলো চিহ্নিত করে চিকিৎসা দিলে আত্মহত্যা প্রতিরোধে সহায়ক হবে। যখন মানুষ জীবনে কোনো আশার আলো দেখতে না পেয়ে নিরাশ, হতাশ ও হতোদ্যম হয়ে পড়ে; আর কোনো উপায় নেই বলে নিজেকে অসহায়, নিরুপায় মনে করে, তখন তার মধ্যে আত্মহত্যার চিন্তা জাগে। স্বভাবতই তাই এসব মানুষের মনে যদি আশার সঞ্চার করা যায়, ভরসা-উপায়ের কোনো পথ বের করে দেওয়া যায়, তাহলে তাদের আত্মহত্যার পথ থেকে ফেরানো সম্ভব বলে জানান মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা। তারা জানান, তবে এ রকম ‘আশাবাদ’ শুধু কথার কথা হলে চলবে না বা কেতাবি, তাত্ত্বিক জ্ঞান, উপদেশ হলেও হবে না; বরং প্রকৃত কাজের মাধ্যমে তাদের সামনে বাস্তব ও দৃশ্যমান উদাহরণ তৈরি করতে হবে। তাদের দেখাতে হবে, আমরা তোমাদের কেয়ার করি, তোমাদের সহায়তা করতে চাই।

আত্মহত্যার চিত্র : জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং আইসিডিডিআরবির যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশ জাতীয় আত্মহত্যা প্রতিরোধ পরিকল্পনা ২০২৬-২০৩০ (খসড়া) প্রণয়ন করা হয়েছে, যাতে পুলিশ ও অন্যান্য উৎসের তথ্যের ভিত্তিতে দেশে আত্মহত্যার চিত্র ও প্রতিরোধমূলক কৌশল তুলে ধরা হয়েছে। এতে ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশে আত্মহত্যার পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে। এতে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যার ঘটনা ছিল ২০২২ সালে, ১৬ হাজার ৮৮৬টি। আর গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১৪ হাজার ৯৬০টি, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া সংখ্যার চেয়ে তিন গুণের বেশি। এ পরিসংখ্যান দিনভিত্তিক বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দিনে গড়ে ৪০ জনেরও বেশি মানুষ আত্মহত্যা করছেন। পুলিশের তথ্যানুযায়ী, আত্মহত্যার ঘটনা বেশি যশোর জেলায়। এ জেলায় ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে আত্মহত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে এক হাজার ৪৫৪টি। এ ছাড়া ২০১৯ সাল থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ৭৫ পুলিশ সদস্য আত্মহত্যা করেছেন। আত্মহননের পথ বেছে নেওয়া পুলিশ সদস্যদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন কনস্টেবল। অভিযোগ রয়েছে, এর পরও আত্মহত্যা প্রতিরোধে পুলিশ বাহিনীতে কোনো প্রতিষ্ঠান বা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নেই। 

আঁচল ফাউন্ডেশনের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে সারা দেশে ৪০৩ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। এর মধ্যে সর্বাধিক আত্মহত্যা সংঘটিত হয়েছে স্কুলপর্যায়ে ১৯০ জন, যা মোট ঘটনার ৪৭.৪০ শতাংশ। কলেজপর্যায়ে ৯২ জন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৭ ও মাদ্রাসায় ৪৪ জন। লিঙ্গভিত্তিক হিসেবে ২৪৯ নারী এবং ১৫৪ পুরুষ শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে স্কুলে ১৩৯ নারী ও ৫১ পুরুষ; কলেজে ৫০ নারী ও ৪২ পুরুষ আত্মহত্যা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এই সংখ্যা ৪১ পুরুষ, ৩৬ নারী শিক্ষার্থী।

হতাশা ও অভিমানে আত্মহত্যা বেশি : শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যা করছে হতাশায় ও অভিমানে। হতাশায় ২৭.৭৯ শতাংশ এবং অভিমানে ২৩.৩২ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। হতাশার ক্ষেত্রে নারী ৬২ বা ৫৫.৩৫ শতাংশ ও পুরুষ ৫০ বা ৪৪.৬৫ শতাংশ, অভিমানে নারী ৫৮ বা ৬১.৭০ শতাংশ ও পুরুষ ৩৬ বা ৩৮.২৯ শতাংশ আত্মহত্যা করেছেন।

১৩-১৯ বছর বয়সীদের আত্মহত্যার হার বেশি : ১৩-১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার সবচেয়ে বেশি, যা মোট আত্মহননকারীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ (৬৬.৫০ শতাংশ)। এদের মধ্যে ১৯০ নারী ও ৭৮ পুরুষ। বিশ্লেষকরা বলছেন, কৈশোরকালীন আবেগীয় অস্থিরতা, পরিচয় সংকট, প্রেমঘটিত টানাপড়েন, একাডেমিক চাপ এবং সামাজিক তুলনা সব মিলিয়ে এ বয়সটি ঝুঁঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার বেশি।