ব্রিকসের আগেই মোদি-পুতিন বৈঠক

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আগেই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর শুরু হবে বিশ্বের প্রধান উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জোটের এ সম্মেলন। এর ঠিক একদিন আগে আগামী শুক্রবার এই দুই রাষ্ট্রপ্রধানের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, ভারতীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক অনলাইন মতবিনিময় সভায় ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তিনি জানান, মোদি ও পুতিনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত যোগাযোগ রয়েছে। তারা বাস্তববাদী এবং বৈশ্বিক এজেন্ডা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয়গুলোও খোলামেলা ও গঠনমূলকভাবে আলোচনা করতে পারেন। পাশাপাশি ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর নিজস্ব মুদ্রায় বাণিজ্য বাড়ানোর বিষয়টিও তাদের আলোচ্য সূচিতে থাকবে। পেসকভ বলেন, ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়া তাদের মোট বাণিজ্যের ৯০ শতাংশ লেনদেনই নিজ নিজ জাতীয় মুদ্রায় সম্পন্ন করছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা মোদি-পুতিনের বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। দুই দেশই দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে। ভারতীয় সংস্থাগুলোর রাশিয়ার বাজারে আগ্রহ বাড়ছে। একই সঙ্গে রাশিয়াও ভারতে তাদের ব্যবসা ও পণ্যের উপস্থিতি আরও বাড়াতে আগ্রহী। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার হুমকিতে থাকা ভারতীয় ব্যবসাগুলোর কথা উল্লেখ করে পেসকভ বলেন, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার অনেক বিষয়ই প্রকাশ্যে আলোচনা করা সম্ভব নয়, যা অন্তরালে খুব গভীরভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ভারতীয় কোম্পানিগুলো রুশ বাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী এবং মস্কো এটিকে স্বাগত জানায়। একই সঙ্গে রাশিয়ার জ¦ালানি তেল সরবরাহে প্রতি মাসেই নতুন রেকর্ড তৈরি হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দুই দেশের শীর্ষ নেতার এ বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ ও উপসাগরীয় সংকটের বিষয়টিও প্রাধান্য পেতে পারে। ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র বলেন, মস্কো নয়াদিল্লির অবস্থান সম্পর্কে অবগত এবং তা রাশিয়ার নিজস্ব অবস্থানের সঙ্গে মোটামুটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা ইউক্রেন সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই এবং রাশিয়া এই প্রক্রিয়ায় উন্মুক্ত। আমরা কখনো এই যুদ্ধ চাইনি।’ একই সঙ্গে তিনি যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রচেষ্টা এবং মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে মধ্যস্থতার উদ্যোগকেও স্বাগত জানান।

রুশ সেনাবাহিনীতে ভারতীয় নাগরিকদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারত সরকার যে তালিকা চেয়েছিল, সে বিষয়ে পেসকভ বলেন, যুদ্ধের ময়দানে থাকা ভারতীয়দের চিহ্নিত করে যত দ্রুত সম্ভব স্বদেশে ফেরত পাঠানোর কাজ চলছে। ব্রিকস প্রসঙ্গে পেসকভ বলেন, গত দুই বছরে গোষ্ঠীটির সম্প্রসারণের ফলে এটি এখন শুধু একটি সংগঠন নয়, বরং একটি বিশাল বৈশ্বিক জোটে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, ব্রিকস এখন একটি বিশাল জোট, শুধু একটি সংগঠন নয়। রাশিয়া এর আরও সম্প্রসারণকে সমর্থন করে এবং বিভিন্ন আলোচনায় আরও বেশি দেশকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার পক্ষে।