ওডেগার্ডের নৈপুণ্যে নাপোলিকে হারাল আর্সেনাল

গত মৌসুমে ইনজুরি ও অফফর্মের কারণে নিজের সেরাটা দিতে না পারলেও নতুন মৌসুমে যেন নতুন এক অবতারে আবির্ভূত হয়েছেন মার্টিন ওডেগার্ড। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন মৌসুমের শুরুতেই ইতালির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব নাপোলির মাঠে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছিল আর্সেনাল। দীর্ঘ ভ্রমণ জটিলতা আর মাক্সিমিলিয়ানো আল্লেগির জমাট রক্ষণ কৌশলে যখন ড্রয়ের শঙ্কা জাগছিল, ঠিক তখনই ত্রাতা হয়ে এলেন গানারদের কাপ্তান।

শেষ মুহূর্তে নরওয়েজিয়ান এই মিডফিল্ডারের দুর্দান্ত এক জয়সূচক গোলে নাপোলিকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ইউরোপিয়ান মিশন সফলভাবে শুরু করল মিকেল আর্তেতার দল। প্রিমিয়ার লিগে দুদিন আগেই লন্ডন ডার্বিতেও গোল করে আর্সেনালকে জেতান ওডেগার্ড। এবার চ্যাম্পিয়নস লিগেও নিজেদের দারুণভাবে মেলে ধরলেন এই ২৭ বছর বয়সী মিডফিল্ডার।

ম্যাচ শুরুর আগে থেকেই নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে উত্তর লন্ডনের ক্লাবটিকে। মঙ্গলবার ভ্রমণ জটিলতার কারণে দেরীতে ইতালিতে পৌঁছানো এবং উয়েফার নিয়মের মারপ্যাচে পড়ে দীর্ঘ সময় পর লাল শর্ট পরে মাঠে নামতে বাধ্য হয় আর্সেনাল। তবে এসব মাঠের বাইরের নাটক ছাপিয়ে শুরু থেকেই নাপোলির রক্ষণভাগে প্রবল চাপ সৃষ্টি করে সফরকারীরা। ম্যাচে মোটে ২৬টি শট নিলেও ফিনিশিংয়ের ব্যর্থতা এবং নাপোলি গোলকিপারের দৃঢ়তায় গোলমুখ খুলতে বেশ ঘাম ঝরাতে হয় গানারদের।

ম্যাচের প্রথমার্ধেই বুকায়ো সাকা এবং মিকেল মেরিনো গোলের দারুণ কিছু সুযোগ হাতছাড়া করেন। বিশেষ করে প্রথমার্ধের শেষ দিকে সাকার একটি চমত্কার ওভারহেড কিক এবং মেরিনোর ক্লোজ-রেঞ্জ হেডার গোল এনে দিতে ব্যর্থ হয়। নাপোলির রক্ষণ ভাঙতে যখন ঘাম ছুটছিল, ঠিক তখনই ৭৫ মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। বদলি খেলোয়াড় ক্রিস্টোস জোলিসের কাছ থেকে বল পেয়ে ডি বক্সের ঠিক বাইরে থেকে জোরালো এক বুলেট গতির শট নেন ওডেগার্ড। বলটি গোলকিপার ভানিয়া মিলিনকোভিচ-সাভিচের আঙুলের ছুঁয়ে পোস্টের ভেতরের দিকে জালে আশ্রয় নেয়।

গোলটি নিয়ে ম্যাচ শেষে মজা করে ওডেগার্ড বলেন, ‘আমি নিজেই দেখতে পাইনি বলটা কীভাবে জালে জড়িয়েছে!’ সঙ্গে আরও যোগ করেন, ‘প্রতিপক্ষ যখন এত ডিপ ডিফেন্স করে খেলছিল, তখন বক্সের বাইরে থেকে শট নেওয়াটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ ছিল।’

গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ জয়ের স্বাদ পেলেও ব্যক্তিগতভাবে বেশ কঠিন সময় পার করতে হয়েছিল ওডেগার্ডকে। তবে চলতি মৌসুমে ইতিমধ্যেই কমিউনিটি শিল্ডসহ প্রথম পাঁচ ম্যাচে চার গোল করে তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন যে তিনি এখন ক্যারিয়ারের সেরা ছন্দে আছেন। অধিনায়ককে এমন দারুণ ফর্মে দেখতে পেয়ে উচ্ছ্বসিত কোচ মিকেল আর্তেতা।

ম্যাচ শেষে টিএনটি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গানার বস বলেন, ‘আমাদের ঠিক এই ধরনের মানসিকতা সম্পন্ন খেলোয়াড়ই প্রয়োজন, যারা ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিতে পারে এবং মাঠে দারুণ ব্যক্তিত্ব প্রদর্শন করে। সে এখন গোল করার মতো পজিশনে নিজেকে আরও বেশি নিয়ে যাচ্ছে এবং তার মধ্যে এক ধরনের আত্মবিশ্বাস কাজ করছে যে সে বল জালে পাঠাতে পারবে।’

নাপোলির মাঠে এই জয় ইউরোপের দীর্ঘ যাত্রায় আর্সেনালের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আগামী দিনে বায়ার্ন মিউনিখ বা রিয়াল মাদ্রিদের মতো কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার আগে নাপোলির মতো রক্ষণাত্মক দলকে ধৈর্য ধরে পরাস্ত করার এই অভিজ্ঞতা গানারদের অনেকদূর এগিয়ে রাখবে।