বিশ্ববাজারে বেড়েছে সোনার দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে সোনার দাম প্রতি আউন্সে ৪,৪০০ ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) স্পট সোনার দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪১৪ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়ায়। ডিসেম্বর ডেলিভারির মার্কিন গোল্ড ফিউচার ০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৫৮ দশমিক ৮০ ডলারে স্থির হয়েছে।

বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব করলে, প্রতি ডলার প্রায় ১২২ টাকা ধরে স্পট সোনার এক আউন্সের দাম দাঁড়ায় প্রায় ৫ লাখ ৩৮ হাজার ৫০০ টাকা। এক আউন্সে প্রায় ২.৪৩ ভরি হিসেবে প্রতি ভরি সোনার দাম দাঁড়ায় আনুমানিক ২ লাখ ২১ হাজার ৬০০ টাকা।

তবে আন্তর্জাতিক বাজারের এই হিসাবের সঙ্গে বাংলাদেশে প্রচলিত সোনার দাম এক নয়। স্থানীয় বাজারে ভ্যাট, শুল্ক, মজুরি ও অন্যান্য খরচ যুক্ত হওয়ায় প্রকৃত দাম কিছুটা বেশি হতে পারে।

হাই রিজ ফিউচার্সের ধাতু ব্যবসা বিভাগের পরিচালক ডেভিড মেগার বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের ওপর কিছুটা চাপ থাকায় সোনার বাজারে ইতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ডলার দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান করছিল। ফলে অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের কাছে ডলারে মূল্য নির্ধারিত সোনা তুলনামূলক সস্তা হয়ে ওঠে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়।

স্টোনএক্সের বাজার বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান রোনা ও’কনেল বলেন, তেলের বাড়তি দাম মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি করছে। তবে পরিবহন ব্যয় ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে বন্ডের সুদও বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদ নভেম্বর ২০২৩-এর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠার পর কিছুটা কমেছে।

বিনিয়োগকারীরা এখন বৃহস্পতিবার প্রকাশিতব্য মার্কিন উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) এবং শুক্রবারের ভোক্তা মূল্যস্ফীতির (সিপিআই) তথ্যের দিকে তাকিয়ে আছেন। এসব তথ্য থেকে আগামী সপ্তাহে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াবে কি না, সে বিষয়ে ধারণা পাওয়া যাবে।

সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহের বৈঠকে ফেড সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা প্রায় ৬০ শতাংশ হিসেবে দেখছে বাজার।

এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। স্পট রুপার দাম ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৭ দশমিক ৯১ ডলার, প্লাটিনাম ৫ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৯০৬ দশমিক ২০ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩৬৫ দশমিক ৫০ ডলারে উঠেছে।

ওয়ার্ল্ড প্লাটিনাম ইনভেস্টমেন্ট কাউন্সিল জানিয়েছে, দুর্বল বিনিয়োগ ও গয়নার চাহিদার কারণে চলতি বছর বিশ্ববাজারে প্লাটিনামের সরবরাহ ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো চাহিদার চেয়ে বেশি হতে পারে।