বিদেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে অতীতে নিজের নামের সুবিচার করতে না পারলেও এবার ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) অভিষেকেই আলো ছড়ালেন মেহেদী হাসান মিরাজ। আফগান অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবীর বদলি হিসেবে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সে যোগ দিয়েই নিজের প্রথম ম্যাচে বল হাতে রীতিমতো ঝড় তুললেন এই বাংলাদেশি ডানহাতি স্পিনার।
প্রভিডেন্সে সেন্ট লুসিয়া কিংসের বিপক্ষে ৪ ওভারে মাত্র ১৩ রান খরচ করে ৩ উইকেট শিকার করেন মিরাজ। অন্যদিকে, গায়ানা অধিনায়ক ইমরান তাহিরের রেকর্ড ৫ উইকেটের সাথে মিরাজের এই দুর্দান্ত স্পিন ঘূর্ণিতে মাত্র ১১৯ রানে গুটিয়ে যায় প্রতিপক্ষ, আর ৪ উইকেটের জয়ে মাঠ ছাড়ে গায়ানা।
এর আগে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে চার ম্যাচ খেলে একটি উইকেটও না পাওয়ার আক্ষেপ সঙ্গী হয়েছিল মিরাজের। তবে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে পা রেখে সেই ব্যর্থতাকে দূরে ঠেলে দিয়ে নিজের অভিষেক রাতেই দারুণ এক পারফরম্যান্স উপহার দিলেন তিনি। পাওয়ার প্লে ঠিক শেষ হতেই বল হাতে পেয়ে প্রথম ওভারেই সেন্ট লুসিয়ার শিবিরে ব্রেক থ্রু এনে দেন মিরাজ। ইনিংসের সপ্তম ওভারের শেষ বলে জন ক্যাম্পবেলকে লং অফে ক্যাচ দিতে বাধ্য করে প্রথম শিকার তুল নেন তিনি।
এরপর নিজের তৃতীয় ওভারে এসে জোড়া আঘাত হানেন এই বাংলাদেশি স্পিনার। প্রথমে কেমল সেভ্রয়কে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেন, যদিও রিপ্লেতে দেখা গেছে রিভিউ নিলে বেঁচে যেতেন এই ব্যাটার। ওভারের শেষ বলেই চারিথ আসালাঙ্কাকে উইকেটের পেছনে শাই হোপের ক্যাচ বানিয়ে নিজের তৃতীয় সাফল্য তুলে নেন মিরাজ। তার এই নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে টিকতেই পারেনি সেন্ট লুসিয়ার মিডল অর্ডার।
মিরাজের দুর্দান্ত বোলিংয়ের দিনে প্রতিপক্ষকে স্পিন ঘূর্ণিতে ভুগিয়েছে দলীয় অধিনায়ক ও অভিজ্ঞ লেগ স্পিনার তাহিরও। মাত্র ১৭ রান দিয়ে ৫ উইকেট শিকার করে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি বয়সে (৪৭ বছর ১৬৬ দিন বয়সে) পাঁচ উইকেট নেওয়ার বিশ্বরেকর্ড গড়েন এই লেগি। তাহির ও মিরাজের যৌথ স্পিন বিষে নীল হয়ে সেন্ট লুসিয়ার ইনিংস শেষ হয় মাত্র ১১৯ রানে। রান তাড়ায় ব্যাটিংয়ে নেমে মিরাজ অবশ্য মাত্র ১ রান করে সাজঘরে ফিরলেও, লোয়ার অর্ডারে কুয়েন্টিন স্যাম্পসনের ঝোড়ো ক্যামিওতে ৯ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে গায়ানা।
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মিরাজের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন কাপ্তান তাহির। ম্যাচসেরার পুরস্কার নেওয়ার দক্ষিণ আফ্রিকা সাবেক এই তারকা স্পিনার বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে নবী ছিলেন। তার মান অনেক উঁচুতে এবং সে আমাদের সেরা বোলার ছিল। তবে মিরাজ আসার পর সে যেভাবে খুব ভালো বোলিং করেছে, ঠিক যেভাবে আমরা চেয়েছিলাম। তার মতো একজনকে দলে পাওয়া সত্যিই দারুণ ব্যাপার। সে বিশ্বমানের স্পিনার, আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্বজুড়ে পারফর্ম করে আসছে। তার সঙ্গে ও অন্য সবার সঙ্গে বোলিং করতে পেরে আমি রোমাঞ্চিত।’
এদিকে অভিষেকেই নিজের দারুণ পারফর্ম নিয়ে মিরাজ বলেন, ‘আমি শুধু মাথায় রেখেছি, বোলিংয়ের জন্য এটি দারুণ একটি উইকেট। সঠিক জায়গায় বল করলে ব্যাটারদের জন্য তার কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। ঠিক এটা চিন্তা করেই এগিয়েছি এবং তাদের চাপের ফেলার চেষ্টা করেছি।’
এই জয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা গায়ানার পথচলা আরও সুদৃঢ় হলো। ৮ ম্যাচে কেবল একটিতে হেরে তাদের পয়েন্ট এখন ১৪।