আলভারেজের আতলেতিকো হারল লিভারপুলের আরেক আর্জেন্টাইনের গোলে

ইউরোপিয়ান ফুটবলের রাতে অ্যানফিল্ডে জমে উঠেছিল দুই বিশ্বজয়ী আর্জেন্টাইন সতীর্থের স্নায়ুর লড়াই। হুলিয়ান আলভারেজের দারুণ এক অ্যাসিস্টে আতলেতিকো মাদ্রিদ প্রথমে এগিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি। নতুন চুক্তি নিয়ে ক্লাবের ওপর জমে থাকা সব ক্ষোভ আর হতাশা মাঠে গোল করে দারুণভাবে ধুয়ে মুছে দিলেন অ্যালেক্সিস ম্যাক-অ্যালিস্টার। সতীর্থ আলভারেজের দলের বিপক্ষে তার দুর্দান্ত জয়সূচক গোলে আতলেতিকোকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ অভিযান সফলভাবে শুরু করল অলরেডরা।

ম্যাচ শুরুর আগে থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ম্যাক-অ্যালিস্টার। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি খোলাখুলিই নিজের কষ্টের কথা জানিয়ে বলেছিলেন, দলের অন্য সতীর্থদের নতুন চুক্তি অফার করা হলেও ক্লাব তাকে নতুন চুক্তির প্রস্তাব না দেওয়ায় তিনি ভীষণ ‘হতাশ ও দুঃখিত’। তবে মাঠের খেলায় সেই ক্ষোভ বা হতাশাকে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে দেননি তিনি। বরং বল পায়ে নিজের জাত চিনিয়ে আতলেতিকোর রক্ষণ দুর্গ গুঁড়িয়ে দিয়েছেন এই ২৭ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার।

অন্যদিকে, বার্সেলোনাতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর আতলেতিকোর হয়ে চলতি মৌসুমে প্রথমবার শুরুর একাদশে নেমেছিলেন আলভারেজ। ম্যাচের শুরু থেকেই নিজের উপস্থিতির জানান দেন তিনি। ১৭ মিনিটে তার নিখুঁত এক পাস থেকে বল ধরে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে লিভারপুলের জালে বল জড়িয়ে আতলেতিকোকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন মার্কোস লরেন্তে। অ্যানফিল্ডের মাঠে লরেন্তের এটি ছিল পঞ্চম গোল, যিনি এর আগে ২০২০ সালেও লিভারপুলকে এই মাঠ থেকে বিদায় করেছিলেন।

ম্যাচে পিছিয়ে পড়ার পর খেই হারায়নি অলরেডরা। প্রথমার্ধের শেষ দিকে মিলোস কেরকেজের দারুণ লড়াই ও রোনাল্দ আরাউহোর পাসে বক্সের ভেতর থেকে নিখুঁত শটে সমতা ফেরান ডমিনিক সোবোসলাই। ১-১ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ। 

বিরতির পর মাঠে নেমেই আসল নাটক উপহার দেন ম্যাক-অ্যালিস্টার। ম্যাচের ৫২ মিনিটে রিউ এনগুমোহার ক্রস থেকে আসা বলে দারুণ এক শটে ডি বক্সের বাইরে থেকে বল সোজা জালে পাঠান ম্যাকালিস্টার। গোলরক্ষক ইয়ান ওবলাকের কিছুই করার ছিল না। গোল করার পর গ্যালারির সামনে গিয়ে বাঁধভাঙা উল্লাসে ফেটে পড়েন এই আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার।

ম্যাচ শেষে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে ম্যাক-অ্যালিস্টার বলেন, ‘আমি সাধারণত ওই পজিশনে পেলে শট নিতে পছন্দ করি। সচরাচর এমন গোল সব সময় হয় না, তবে আমি খুব খুশি কারণ আমি গোল করতে ভালোবাসি। আজকের গোলটি দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল, আর আমি ঠিক এটাই চেয়েছিলাম।’

এদিকে লিভারপুলের নতুন কোচ আন্দোনি ইরাওলাও দলের এই দারুণ কামব্যাক নিয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করেছেন। অবশ্য কিছু ক্ষেত্রে নিজের ভুলটাও স্বীকার করে নিয়েছেন। সেসব প্রসঙ্গে স্বাগতিকদের কোচ বলেন, ‘ম্যাচের শুরুটা ভালো না হওয়ার জন্য কিছুটা দায় আমার নিজেরই। আতলেতিকো যেভাবে আমাদের চমকে দিয়েছিল, আমরা তার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আমরা গুছিয়ে খেলি এবং সেরা দল হিসেবেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ি।’

এই জয়ে ইউরোপের মঞ্চে লিভারপুলের নতুন পথচলা সফল হলেও, ম্যাক-অ্যালিস্টারের চুক্তি নিয়ে ক্লাব প্রশাসনের ওপর তৈরি হওয়া চাপ আগামী দিনগুলোতেও উত্তাপ ছড়াতে পারে।