ইন্টার মায়ামির ম্যাচ মানেই এখন আর কেবল মেসিদের জাদুকরী ফুটবল বা গোলের রোমাঞ্চ নয়, বরং যোগ হচ্ছে মাঠের নানা উত্তাপ ও তীব্র উত্তেজনা। শিকাগো ফায়ারের বিপক্ষে আজকের ১-১ গোলের ড্র হওয়া ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে রড্রিগো ডি পল ও রবার্ট লেভানডোফস্কির মধ্যকার ধাক্কাধাক্কি আর উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় সেই আগুনে যেন নতুন করে ঘি ঢেলে দিয়েছে।
প্রতিপক্ষের বক্সের ভেতরে লেভানডোফস্কিকে ধাক্কা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে তৈরি হওয়া তুমুল বাকবিতণ্ডা এই ম্যাচটিকে ছাপিয়ে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে যখন শিকাগো জয় বাঁচানোর জন্য মরিয়া হয়ে আক্রমণ শানাচ্ছিল, ঠিক সেই সময়ই মাঠে এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রক্ষণাত্মক জমাট বাঁধার চেষ্টা করা শিকাগো খেলোয়াড়দের চাপের মুখে ডি পলের সঙ্গে বক্সের ভেতর লেভানডোফস্কির ধাক্কাধাক্কি হয়।
অবশ্য মূল সূত্র মিনিট খানেক আগের। ডি পলের আগের মায়ামি ডিফেন্ডার ইয়ান ফ্রের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয় লেভার। তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে এই সাবেক পোলিশ স্ট্রাইকারই আগে ধাক্কা দিয়ে বসেন ফ্রেকে। সেখানে ফ্রে উঠে উল্টো ধাক্কা দিয়ে লেভাকে ফেলে দেন মাটিতে। এরপর লেভা ডি-বক্সে ঢুকে ফ্রে’র সঙ্গে ফের বাকবিতণ্ডায় জড়াতে গেলে সেখানে তেড়ে আসেন ডি পলরা। যদিও ঠিক কী কারণে এই মুখোমুখি বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়; তবে ম্যাচের শেষ মুহূর্তের সেই স্নায়ুচাপ পুরো পরিবেশকে ভারী করে তুলেছিল।
মাঠের লড়াইয়ে এমন উত্তাপ ও মেজাজ হারানোর ঘটনা ইন্টার মায়ামির ক্ষেত্রে যেন নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিছুদিন আগেই ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বিপক্ষে ম্যাচে কুইন সুলিভান সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত এক ধাক্কাধাক্কি ও মারমুখী আচরণে জড়িয়ে শিরোনাম হয়েছিলেন দলের মহাতারকা মেসি। অফ-দ্য-বল পজিশনে ঘটে যাওয়া সেই ঘটনাটি ফুটবল বিশ্বে বেশ বড় ধরনের আলোড়ন তুলেছিল এবং শৃঙ্খলার প্রশ্নটিকে সামনে এনেছিল। পরে অপ্রকাশিত আর্থিক জরিমানাও গুনতে হয়েছিল মেসি।
ঠিক একইভাবে, এর আগের ম্যাচে আটলান্টা ইউনাইটেডের বিপক্ষেও ভিন্ন এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সাক্ষী হয়েছিল মায়ামি। প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার জুনিয়র আলোনসোর মুখোমুখি হয়ে তীব্র তর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন মেসি। উদযাপনের ধরন নিয়ে তৈরি হওয়া সেই অসন্তোষ এবং পরবর্তী বাকবিতণ্ডা মাঠে উপস্থিত সবার নজর থামিয়েছিল।
মায়ামির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ওঠানামার সঙ্গে দলের ভেতরকার এই মানসিক চাপ ও স্নায়ুর লড়াই যেন ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে থাকা কিংবা প্রতিপক্ষের শারীরিক ফুটবলের জবাব দিতে গিয়ে প্রায় প্রতি ম্যাচেই মেজাজ হারানোর মতো ঘটনা ঘটছে। ফুটবলের নান্দনিকতার চেয়ে মাঠের এই কড়া ট্যাকল, ধাক্কাধাক্কি আর বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা ইন্টার মায়ামির চলতি মৌসুমের অন্যতম বড় এক বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।