ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের কাশিনগর (পূর্বপাড়া) এলাকায় কাশিনগর নুরে মদিনা ইসলামিয়া মাদরাসায় আকস্মিক হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে এলাকার মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পাঁচজন আহত হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ বিষয়ে বিজয়নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের কাশিনগর পূর্বপাড়ায় নুরে মদিনা ইসলামিয়া মাদরাসাটি ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে সেখানে দ্বীনি শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। মাদরাসার পাশে পরিত্যক্ত বাথরুম ও এর আশপাশে প্রায়ই মাদকদ্রব্য রাখার অভিযোগ রয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ বাধা দিলে মাদক কারবারিরা ক্ষিপ্ত হন।
মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৮ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বেআইনিভাবে মাদরাসায় প্রবেশ করে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালান। এ সময় মাদরাসার শিক্ষক ও স্থানীয় লোকজন বাধা দিলে আসামিদের অস্ত্রের আঘাতে অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হন। পরে তারা বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।
আহতরা হলেন—ইদ্রিস খাঁ, অহিদ খাঁ, মোতালিব খাঁ, মো. ওয়াসিম মিয়া ও ছোটন খাঁ।
এ ঘটনায় ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে বিজয়নগর থানায় মামলা করেছেন কাশিনগর এলাকার বাসিন্দা ইদ্রিস খাঁ।
মামলার আসামিরা হলেন—মো. লাল মিয়া (৩৭), ওয়াসিম মিয়া (৪০), মমিন মিয়া (২৮), নীল মিয়া (৩৫), মামুন মিয়া (৪০), সাকিব মিয়া (১৮), মহসিন মিয়া (৩৭), বশির মিয়া (৩২), মো. রমজান মিয়া (৬০), রাজন মিয়া (২৮), সজল মিয়া (২২), জীবন মিয়া (২৫), খায়ের মিয়া (৪৮), হারুন মিয়া (৫৫), ইয়াসিন মিয়া (৫০), বাদন মিয়া (১৮), শাহ আলম মিয়া (২২) ও কালু মিয়া (২২)।
এদিকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মাদরাসা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসী। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাদরাসার পরিচালক মাওলানা হাফেজ মো. ইমরান হোসাইন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বিজয়নগর শাখার সভাপতি মাওলানা শফিকুল ইসলাম, সিঙ্গারবিল ইউনিয়ন ইমাম পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা সামসুল ইসলাম হুমায়ূন, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মানছুল হক, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়জুল্লাহ, নলগড়িয়া মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা বেলাল হোসেন, মাওলানা শহিদুল্লাহ, মাদরাসার সভাপতি হাফিজুর রহমান, সিঙ্গারবিল ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি ইসমাইল মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক আশিক খাঁন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারাও উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে মাদরাসায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করে মামলার ২ নম্বর আসামি ওয়াসিম মিয়া বলেন, ‘মাদরাসা আমরা ভাঙচুর করিনি। তারা নিজেরাই ভাঙচুর করে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছেন।’
এ বিষয়ে বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আসামিরা কোনোভাবেই ছাড় পাবেন না।