গৌরীপুরে সাংবাদিককে মারধরের পর মাদক মামলায় আদালতে পাঠানোর অভিযোগ

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে এইচ টি তোফাজ্জল হোসেন (৩২) নামে এক সাংবাদিককে মারধর করে মাদক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে গৌরীপুর সাংবাদিক ঐক্য ফোরাম। তবে পুলিশ বলছে, স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে তোফাজ্জলকে উদ্ধার করা হয় এবং পরে তার কাছ থেকে ১৯টি ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের কলতাপাড়া গ্রামের আশরাফুল আলমের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

তোফাজ্জল হোসেন দৈনিক ডেসটিনি পত্রিকার গৌরীপুর উপজেলা প্রতিনিধি এবং গৌরীপুর সাংবাদিক ঐক্য ফোরামের সাধারণ সম্পাদক। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় একটি বেসিক ইংলিশ লার্নিং সেন্টারের পরিচালক। তার বাড়ি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার দলপা ইউনিয়নের দৈলা গ্রামে।

গৌরীপুর সাংবাদিক ঐক্য ফোরামের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, আশরাফুল আলমের মেয়ের শিক্ষক ছিলেন তোফাজ্জল। ঘটনার দিন রাতে আশরাফুলের আমন্ত্রণে তার বাড়িতে দাওয়াত খেতে যান তিনি। সেখানে তাকে পরিকল্পিতভাবে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয় এবং রশি দিয়ে বেঁধে রাখার পর মাদক দিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সংগঠনের সভাপতি মো. শাহজাহান কবির হীরা বলেন, তোফাজ্জল ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। তার দাবি, তোফাজ্জল কখনো ধূমপানও করেননি; তার কাছে ইয়াবা পাওয়া যাওয়ার বিষয়টি সন্দেহজনক। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান।

তোফাজ্জলের পরিবারের সদস্যরাও তাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে দাবি করে ঘটনার সঠিক তদন্ত দাবি করেছেন।

এদিকে পুলিশের এজাহার সূত্রে জানা যায়, ৮ সেপ্টেম্বর রাতে গৌরীপুর বাজার এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ খবর পায়, ডৌহাখলা ইউনিয়নের কলতাপাড়া এলাকায় কথিত মাদক ব্যবসায়ী আশরাফুল আলমের বাড়িতে স্থানীয় লোকজন একজনকে মাদকসহ আটক করে রেখেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তোফাজ্জল হোসেনকে হেফাজতে নেয়। এ সময় আশরাফুল আলম কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যান।

পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনের সামনে তোফাজ্জলের আকাশি রঙের শার্টের পকেট থেকে সাদা পলিথিনে মোড়ানো ১৯টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ১৭টি সবুজ ও দুটি গোলাপি রঙের ইয়াবা ছিল। উদ্ধার করা ইয়াবার ওজন প্রায় দুই গ্রাম এবং আনুমানিক বাজারমূল্য ৯ হাজার ৫০০ টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় রেজিস্ট্রেশনবিহীন একটি সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, তোফাজ্জলকে আটকের সময় উত্তেজিত জনতার মারধরে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। পরে তাকে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) গৌরীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আহাদুল ইসলাম বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। মামলায় তোফাজ্জল হোসেন ও আশরাফুল আলমকে আসামি করা হয়েছে। পরে তোফাজ্জলকে আদালতে পাঠানো হয়।

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তোফাজ্জল ও আশরাফুলের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা করেছে। আশরাফুল একাধিক মাদক মামলার আসামি। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ঘটনার পর তোফাজ্জলকে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। কেউ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছেন, আবার কেউ ঘটনাটিকে ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে প্রকৃত ঘটনা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বুধবার রাতে গৌরীপুর সাংবাদিক ঐক্য ফোরামের কার্যালয়ে সংগঠনের সভাপতি শাহজাহান কবির হীরার সভাপতিত্বে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে দেওয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সাংবাদিক তোফাজ্জল হোসেনকে মারধরের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানানো হয়।