মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত রিফাত

মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া সেনা সদস্য তাসনিম রিফাত। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহীর পবা উপজেলার বিন্দারামপুর গ্রামে জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হয়।

মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজন ও গ্রামবাসীর মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। শেষবারের মতো প্রিয়জনকে দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন আশপাশের এলাকার মানুষ। স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

এদিকে দুর্ঘটনায় তরুণ এই সেনা সদস্যের মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোক ও অনিশ্চয়তা। রিফাতের আড়াই বছরের মেয়ে ইকরার ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। প্রায় নয় বছর আগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন রিফাত। পরিবার নিয়ে চট্টগ্রামে থাকতেন তিনি। সম্প্রতি তাঁর বগুড়া ক্যান্টনমেন্টে বদলির প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত হয়েছিল। এরই মধ্যে বুধবার চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ার রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিংয়ের সময় দুর্ঘটনা ঘটে। এতে রিফাতসহ দুই সেনা সদস্য নিহত হন।

চট্টগ্রাম থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে হেলিকপ্টারে রাজশাহীতে আনা হয় সেনা সদস্য রিফাতের মরদেহ। গ্রামের বাড়িতে মরদেহ পৌঁছানোর পর স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে দেখতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন নানা বয়সী মানুষ।

দাফনের আগে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার দিয়ে রিফাতকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। রিফাতের বড় ভাই এ বি মাহমুদ দীপ্ত বলেন, ‘রিফাতের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। ছোটবেলা থেকেই যেকোনো সমস্যায় পড়লে পাশে পেয়েছেন রিফাতকে। সেই ভাইয়ের অকাল চলে যাওয়াকে কোনোভাবেই মানতে পারছেন না।’

শোকে যেন ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন রিফাতের বাবা আসাদুল হক। প্রায় তিন বছর আগে তাঁর স্ত্রী ক্যান্সারে মারা যান। সেই শোক কাটতে না কাটতেই সন্তান হারানোর কষ্ট যেন নির্বাক করে দিয়েছে তাঁকে। সন্তানের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।

রিফাতের একমাত্র সন্তান আড়াই বছরের ইকরা। বাবাকে হারানোর কষ্ট বোঝার মতো বয়স এখনো হয়নি তাঁর। কিন্তু ছোট্ট ইকরার ভবিষ্যৎ কী হবে-এই প্রশ্নই এখন বড় বেশি ভাবাচ্ছে তাঁর মা ফাহমিদা আফরিন জুঁইকে।

দুপুরে পুরো বাড়িতে যখন কান্নার রোল, তখন ইকরা শুধু সবার মুখের দিকে তাকাচ্ছিল। বাবার দাফন শেষে সবাই যখন বাড়িতে ফিরে গেলেন, তখন নিজের মতো করেই খেলছিল ছোট্ট এই অবুঝ শিশু।

নিহত রিফাতের স্ত্রী ফাহমিদা আফরিন জুঁই বলেন, তিনি স্বামীর জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। তিনি বলেন, অবুঝ ইকরার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা ভর করেছে তাঁর মনে। মেয়ের ভবিষ্যতের জন্য সরকারের সহায়তা পাওয়ার প্রত্যাশা করেন তিনি।