চট্টগ্রাম নগরীর তীব্র যানজট নিরসন, পরিবেশ দূষণ রোধ ও অপরিকল্পিত নগরায়ন মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো নগরীর কেন্দ্রস্থল থেকে প্রান্তিক এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার (বিকেন্দ্রীকরণ) প্রস্তাব এসেছে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থার উন্নয়ন, আধুনিক গণপরিবহন চালু এবং ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সমন্বয় সভায় এসব প্রস্তাব ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়। নগরীর যানজট নিরসনে সম্প্রতি সিডিএ পরিচালিত অভিযানের পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নেওয়া পদক্ষেপ পর্যালোচনা এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজতে এই সভার আয়োজন করা হয়।
সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরসহ (মাউশি) সংশ্লিষ্ট ২৬টি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এর মধ্যে সাম্প্রতিক অভিযানে চিহ্নিত ২০ হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, চার স্কুল এবং দুই সুপারশপের প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন।
সভায় হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিনিধিরা জানান, সিডিএর নির্দেশনার পর তারা নিজস্ব উদ্যোগে পার্কিং সুবিধা বাড়ানো, ড্রপিং বে তৈরি এবং রোগী ওঠানামার স্থান নির্ধারণের কাজ শুরু করেছেন। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পার্কিংয়ের জন্য অতিরিক্ত জমি কেনা বা ভাড়া নেওয়ার উদ্যোগের কথা জানায়।
অন্যদিকে স্কুলকেন্দ্রিক যানজট কমাতে বিভিন্ন শ্রেণির ক্লাস ভিন্ন সময়সূচিতে পরিচালনা, নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা (বাস সার্ভিস) চালু এবং নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষী দিয়ে স্কুলের বাইরের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্তের কথা জানান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। কিছু স্কুলের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পারাপারে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানানো হয়।
সমন্বয় সভায় কেবল সড়ক সম্প্রসারণ নয় বরং সামগ্রিক নগর পরিকল্পনা পরিবর্তনের আহ্বান জানান সেবাদানকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা। আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রবণতা বন্ধ করা, আধুনিক কিচেন মার্কেট ও বহুতল (হাইরাইজ) পার্কিং ভবন নির্মাণ এবং মূল শহরের ওপর চাপ কমাতে সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রান্তিক এলাকায় স্থানান্তরের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এছাড়া ভবনের নকশা ও ফায়ার সেফটি প্ল্যান অনুযায়ী ভবনের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়।
সমাপনী বক্তব্যে সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় নগরকে যানজট ও দূষণমুক্ত করে নান্দনিক ও বাসযোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করছি। নগরীকে ঘিরে তৈরি সিডিএর মাস্টার প্ল্যান (২০২৫-৫০) বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের স্থায়ী সমাধান মিলবে। তবে এর পাশাপাশি স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি বিভিন্ন পদক্ষেপও কার্যকর করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সিডিএর ধারাবাহিক তদারকির পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গৃহীত পদক্ষেপ আশাব্যঞ্জক এবং সব সংস্থার সমন্বিত প্রয়াসে চট্টগ্রাম শহরকে একটি সুশৃঙ্খল নগরে রূপান্তর করা সম্ভব।