গোল উৎসবের গল্প আর নতুন ইতিহাসের জন্ম, উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের গতকালের রাতটা ছিল এই দুইয়ের মিশেল। অসুস্থতা কাটিয়ে জামাল মুসিয়ালার দারুণ গোল ও হ্যারি কেইন-মাইকেল অলিসেদের নৈপুণ্যে বায়ার্ন মিউনিখ যখন বোডো/গ্লিম্টকে ৫-০ ব্যবধানে ধূলিসাৎ করল, ঠিক একই সময়ে ইতালিয়ান ক্লাব কোমো নিজেদের অভিষেক রাতেই লাইপজিগকে ৪-১ গোলে হারিয়ে রচনা করল নতুন এক ইতিহাস।
বায়ার্নের গোল উৎসব ও মুসিয়ালার প্রত্যাবর্তন
ইউরোপীয় অঙ্গনে বাভারিয়ানদের দাপ্ট নতুন কোনো গল্প নয়, তবে এবারের সূচনাটা হয়েছে আরও বেশি আগ্রাসী ও কৌশলগত রূপ নিয়ে। নরওয়ের ক্লাব বোডো/গ্লিম্টকে পাত্তাই দেয়নি ভিনসেন্ট কোম্পানির দল। অবশ্য প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষ বেশ ভালো প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা চালিয়েছিল। তবেদ্বিতীয়ার্ধে পাল্টে যায় দৃশ্যপট। বিরতির পরই পাঁচটা গোল দিয়েছে স্বাগতিকরা।
ঘরের মাঠে ইনজুরি ও স্নায়ুর সমস্যার কারণে কঠিন সময় পার করার পর মাঠে ফিরে গোল করে দারুণ এক গল্প লিখেছন মুসিয়ালা। ম্যাচের ৪৭ মিনিটে কেইনের শট থেকে বল পেয়ে চমৎকার ফিনিশিংয়ে বায়ার্নকে এগিয়ে দেন এই তরুণ তারকা। গোলের পর নিজের মাথার পাশে আঙুল দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি বুঝিয়ে দেন কঠিন সময় পেছনে ফেলে তিনি কতটা স্বস্তিতে আছেন।
এরপর মিনিট ১৪ পরে হেডের গোলে কেইন নিজের নাম লেখান স্কোরশিটে, যা চ্যাম্পিয়নস লিগে তার ৫৫তম গোল। এছাড়া আলফোনসো ডেভিসের দূরপাল্লার রকেট শট এবং মাইকেল অলিসের জোড়া গোল জয়কে বিশাল ব্যবধানে নিয়ে যায়।
ম্যাচ শেষে সতীর্থ মুসিয়ালার এই ঘুরে দাঁড়ানো নিয়ে ফরোয়ার্ড কেইন, ‘আমি তার জন্য সত্যিই খুব খুশি। বিশেষ করে প্রাক-মৌসুম ও মৌসুমের শুরুতে সে বেশ কঠিন সময় পার করেছে, তাই তার মুখে হাসি দেখতে পাওয়াটা দারুণ ব্যাপার। তার ওপর থেকে বড় ধরনের মানসিক চাপ নেমে গেছে এবং এখন তাকে বেশ ভালো দেখাচ্ছে।’
কোমোর রূপকথার অভিষেক
ইউরোপের শীর্ষ প্রতিযোগিতায় প্রথমবার পা রেখেই ইতিহাস গড়েছে কোমো। নিজেদের ঘরের মাঠ স্টাডিও সিনিগাগ্লিয়াকে উয়েফার নিয়মের অধীনে প্রস্তুত করতে বেশ বড় ধরনের লড়াই করতে হয়েছিল ইতালিয়ান ক্লাবটিকে। শেষ পর্যন্ত সেই স্বস্তি নিয়ে মাঠে নেমে আরবি লাইপজিগের বিপক্ষে ৪-১ গোলের চোখ জুড়ানো এক জয় তুলে নেয় সেস্ক ফ্যাব্রেগাসের দল। মাঠের চমৎকার ফুটবল শৈলীর পাশাপাশি কমোর এই জয় ইতালিয়ান ফুটবল মানচিত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকা কোমো ১৫ মিনিটে মার্টিন বাতুরিনার গোলে এগিয়ে যায়। এরপর তসো দৌভিকাস ও আসেন দিয়াও ব্যবধান বাড়ালে চালকের আসনে বসে পড়ে স্বাগতিকরা। লাইপজিগের আন্দ্রিজা মাকসিমোভিচ এক গোল শোধ করলেও শেষ মুহূর্তে ম্যাক্সিমো পেরোনের গোলে বড় জয় নিশ্চিত হয়।
ম্যাচ শেষে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হওয়া বাতুরিনা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, ‘দলের জন্য এবং পুরো শহরের জন্য এটি একটি দুর্দান্ত রাত। অবশ্যই এটি একটি সুন্দর অনুভূতি, আমি নিজের এবং পুরো দলের জন্য সত্যিই গর্বিত এবং আমাদের এভাবেই চালিয়ে যেতে হবে কারণ এটি কেবল শুরু।’
ক্লাবের এই সাফল্যের পেছনে কোচ সেস্ক ফ্যাব্রেগাসের ট্যাকটিক্যাল সাফল্যের পাশাপাশি ক্লাব কর্তৃপক্ষের চমৎকার এক মানবিক উদ্যোগও প্রশংসিত হয়েছে। মাঠে জায়গা সংকুলান করতে ক্লাব সভাপতি মিরওয়ান সুওয়ারসো ও পরিচালকেরা তাদের নিজেদের নির্ধারিত আসনগুলো ছেড়ে দিয়ে ১৯৫০ বা তার আগে জন্ম নেওয়া প্রবীণ সমর্থকদের ঐতিহাসিক এই ম্যাচ মাঠে বসে উপভোগ করার সুযোগ করে দেন। ম্যাচ শেষে কোমো কোচ ফ্যাব্রেগাস সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আজ রাতে পারফরম্যান্স দারুণ ছিল। এটি চ্যাম্পিয়নস লিগে আমাদের প্রথম ম্যাচ, তাই এটি আমাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক রাত।’