গুগলে ‘অজ্ঞান করার ওষুধ’ খুঁজে তৃতীয় লিঙ্গের বন্ধুকে হত্যা, দাবি পুলিশের

ঋণের টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে তৃতীয় লিঙ্গের ব্যবসায়ী ওয়াহেদ হোসেন ওরফে নিঝুমকে (৩৭) পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার দুই বন্ধুর বিরুদ্ধে। হত্যার আগে আসামি নাজিম উদ্দিন (৩০) মুঠোফোনে গুগলে ‘অজ্ঞান করার ওষুধের নাম কী’ এমন তথ্য খুঁজেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এরপর কোমল পানীয়ের সঙ্গে চেতনানাশক ও বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে নিঝুমকে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাজিম স্বীকার করেছেন।

হত্যার পর লাশ বস্তাবন্দী করে বগুড়া মহানগরের মালগ্রাম মধ্যপাড়া দীঘিপাড় এলাকায় ফেলে রাখা হয়। নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর গত ১২ আগস্ট সেখান থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে স্বজনেরা লাশটি নিঝুমের বলে শনাক্ত করেন। নিহত নিঝুম বগুড়া মহানগরের সুত্রাপুর কসাইপাড়া এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে।

এ ঘটনায় বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) বগুড়া সদর থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। মামলার বাদী নিঝুমের বড় ভাই সোহেল। মামলার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নাজিমকে কাহালু উপজেলার মদনাই গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার অপর বন্ধু মো. স্বপনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিঝুম বগুড়া মহানগরের সূত্রাপুর এলাকার ফল ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি স্টেশন সড়কে বাবার সঙ্গে ‘নিঝুম এন্টারপ্রাইজ’ নামে ফলের আড়ত পরিচালনা করতেন। নাজিম ও স্বপন বেসরকারি সংস্থা আশা’র বাবুর্চি হিসেবে কাজ করতেন। তাদের সঙ্গে নিঝুমের বন্ধুত্ব ছিল। কিছুদিন আগে ব্যবসার জন্য নিঝুম তার মায়ের নামে আশা থেকে সাত লাখ টাকা ঋণ নেন। এর মধ্যে তিন লাখ টাকা বাবার হাতে দেওয়ার পর অবশিষ্ট চার লাখ টাকা থেকে স্বপনকে দুই লাখ এবং নাজিমকে এক লাখ টাকা ধার দেন। ওই টাকা লেনদেন নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।

পুলিশের দাবি, সেই বিরোধের জেরেই নাজিম ও স্বপন নিঝুমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৭ আগস্ট নাজিম কৌশলে নিঝুমকে মালগ্রাম এলাকায় বেসরকারি সংস্থা আশা’র কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানে কোমল পানীয়ের সঙ্গে চেতনানাশক ও বিষাক্ত দ্রব্য মিশিয়ে তাঁকে খাওয়ানো হয়। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশ বস্তায় ভরে দীঘিপাড় এলাকায় ফেলে রাখা হয়।

পরদিন ৮ আগস্ট নাজিম ও স্বপন আশা’র চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় ইস্তফা দিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। নিঝুমের সঙ্গে হত্যার আগে তাদের দুজনের মুঠোফোনে কথোপকথনের তথ্যও পেয়েছে পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক শরিফুল ইসলাম আসামী নাজিমকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। বগুড়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুল ইসলাম পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী বলেন, অজ্ঞাতপরিচয় লাশ উদ্ধারের পর স্বজনেরা সেটি নিঝুমের বলে শনাক্ত করেন। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হত্যার রহস্য উদঘাটনে কাজ শুরু করে পুলিশ। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

নিঝুমের পরিবারের দাবি, সে ছোট বেলা থেকেই খুব সঞ্চয়ী। সে তার বন্ধুবান্ধবদের সাহায্য করতো। সেই বন্ধুরায় তার জীবন নিয়ে নিল। আমরা খুনিদের ফাঁসি চাই।