পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে খুন হয়েছেন শেখ ওয়াসিম রনি (৪৩) নামে এক ব্যবসায়ী। নিখোঁজের তিনদিন পর বালি চাপা দেওয়া অবস্থায় রনির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহের হাত-পা বাঁধা এবং মুখে পলিথিন প্যাচানো ছিল। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি মর্গে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোর চারটার দিকে লালবাগ বিসি দাস স্ট্রিট ৯ নম্বর বাড়ির নিচ তলার ফাঁকা জায়গার বালি খুঁড়ে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অলংকার ব্যবসায়ী মাসুমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত শেখ ওয়াসিম রনি থাকতেন যাত্রাবাড়ী শেখদী এলাকায়। তার বাবার নাম মৃত শেখ আব্দুল রহিম।
নিহতের মেয়ে রামিসা আক্তার সোনাম জানান, তার বাবা ব্যবসায়ী। চকবাজার আসিক টাওয়ারে ইমিটেশন অলংকার ব্যবসায়ী মাসুমের সাথে তার ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল। মাসুমের কাছে তিনি ৩ লাখ টাকা পেতেন। ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তার বাবা তাদের বলেছিলেন, মাসুমের কাছ থেকে পাওনা টাকার চেক আনতে যাচ্ছেন তিনি। এরপর থেকে তার সাথে আর পরিবারের যোগাযোগ হচ্ছিল না। ফোনে চেষ্টা করেও কোন সংযোগ পাচ্ছিলেন না। ওইদিনই সন্ধ্যার দিকে তার বাবাকে খুঁজতে মাকে সাথে নিয়ে লালবাগে মাসুমের বাসায় গিয়েছিলেন। তখন বাসায় শুধু মাসুমের স্ত্রী ছিলেন। সেখান থেকেই মুঠোফোনে মাসুমের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি তখন জানান, পাওনা টাকার চেক তাকে (রনিকে) দিয়ে দিয়েছেন তিনি। এরপরে রনি কোথায় গিয়েছেন সেটি তিনি আর জানেন না। পরবর্তীতে সেই বাসা থেকে রনির পরিবার চলে আসেন।
এরপর ওই রাতে লালবাগ থানায় জিডি করেন। সে সময়ও তাদের সাথেই উপস্থিত ছিলেন ঘাতক মাসুম। পরবর্তীতেও রনিকে খোঁজার যত ধরনের সহযোগিতা সব তিনি করছিলেন সাথে থেকে।
রামিসা আরও জানান, পরবর্তীতে মাসুমের বাসার গলির একটি সিসিটিভি ফুটেজে তার বাবাকে মোটরসাইকেল চালিয়ে যেতে দেখা যায়। গলির কিছুদূরে আরেকটি সিসি ক্যামেরায় তাকে পার হয়ে যেতে দেখা যায়না। এই দুটি ক্যামেরার মাঝেই মাসুমের বাসা। ১ম সিসি ক্যামেরায় তাকে আর ফিরে আসতেও দেখা যায়নি।
তখন তাদের সন্দেহ আরও বেড়ে গেলে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাসুমকে আটক করে। তখন তিনি স্বীকার করেন, তার বাবা রনিকে নির্মমভাবে মেরে ফেলেছেন। এই হত্যাকাণ্ডের কঠোর বিচার দাবি করেছেন পরিবারটি।
এদিকে, লালবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জামিল হোসেন জানান, শেখ ওয়াসিম রনি নিখোঁজের পর থানায় পরিবার একটি জিডি করেন। তদন্ত নেমে তার সাথে ব্যবসায়িক লেনদেন করা মাসুম নামে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং তার দেখানো মতে তারই বাসার নিচে ফাঁকা জায়গায় বালি খুঁড়ে ভুক্তভোগী রনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি জানান, ঘাতক মাসুম জানিয়েছে, বাসার ভেতর মাথায় ঘুষি মারার পর রনি ফ্লোরে পড়ে যান। তখনই তার হাত পা বেঁধে ফেলে এবং গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যা করে সে। লাশ গুম করার জন্যই বাসার নিচ তলায় বালি খুঁড়ে সেখানে মাটি চাপা দিয়ে রাখে। মরদেহটি অনেকটাই পঁচে গেছে।
এই ঘটনায় মাসুমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কোর্টে পাঠানো হয়েছে। ব্যবসায়িক পাওনা তিন লাখ টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।