পুতিন-পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করবেন মোদি

সপ্তাহান্তে ব্রিকস সম্মেলন শুরু হওয়ার আগে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি সেজে উঠেছে বিশ্বনেতাদের স্বাগত জানাতে। শহরের বিভিন্ন সড়কে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বিশ্বনেতাদের স্বাগত জানানো পোস্টার টাঙানো হয়েছে। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আরোপ করা হয়েছে কঠোর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ। খবর এনডিটিভির। 

১১ সদস্যের ব্রিকস জোটের বৈঠকে যোগ দিতে এরই মধ্যে নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের যুদ্ধ নিয়ে জোটের সদস্যদের মধ্যে মতপার্থক্য এবং বৃহত্তর অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।

আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। এসব বৈঠকে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, ছয় বছর পর ভারত সফরে আসা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও সম্মেলনের ফাঁকে মোদির বৈঠক হতে পারে। ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকার সীমান্ত সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয়েছিল। ওই সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হন; চীনের পক্ষেও অজ্ঞাতসংখ্যক সেনা নিহত হয়েছিল।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে পারমাণবিক শক্তিধর দুই এশীয় দেশের সম্পর্ক আবারও উষ্ণ হতে শুরু করেছে। ধীরে ধীরে পুনরায় চালু হচ্ছে দুই দেশের মধ্যে বিমান চলাচল ও ভিসা কার্যক্রম, পাশাপাশি বাড়ছে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ। ব্রিকস প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৯ সালে। পশ্চিমা শক্তির প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানগুলোতে উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর প্রভাব বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই জোটের যাত্রা শুরু হয়।

পরবর্তীতে জোটের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে এতে ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও রয়েছে—যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংকট নিয়ে যাদের অবস্থান একে অপরের থেকে বেশ ভিন্ন।

বর্তমানে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো হলো—ব্রাজিল, চীন, মিসর, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত।

২০২৬ সালে ব্রিকসের সভাপতির দায়িত্বে থাকা ভারত সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন ‘আউটরিচ ইনভাইটিস’ বা আমন্ত্রিত দেশগুলোর প্রতিনিধিদেরও সম্মেলনে একত্র করছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ব্রিকস সম্মেলনে নেতারা অভিন্ন অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে জোটের অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা আরও জোরদার করার উপায় নিয়ে মতবিনিময় করবেন। পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও তারা নিজেদের মতামত তুলে ধরবেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, দুই দিনের এই সম্মেলনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইতিবাচক ও অর্থবহ আলোচনা হবে বলে তিনি পুরোপুরি আশাবাদী। বৈশ্বিক কল্যাণের আকাঙ্ক্ষাই এসব আলোচনায় প্রতিফলিত হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মোদি আরও বলেন, 'সৎ ও গুণবান মানুষের সঙ্গেই কথা বলা উচিত, তাদের সঙ্গেই একসঙ্গে কাজ করা উচিত। বিতর্ক ও বন্ধুত্বও গুণবান মানুষের সঙ্গেই করা উচিত; অসৎ মানুষের সঙ্গে কোনোভাবেই নয়।'