ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প ও গুপ্তচরবৃত্তিতে ব্যবহার হচ্ছে এআই

অ্যানথ্রপিক দাবি করেছে, তাদের ক্লড এআই মডেল ব্যবহার করে একাধিক ক্ষতিকর তৎপরতা চালানোর চেষ্টা ঠেকানো হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে ছিল সাইবার গুপ্তচরবৃত্তি, অস্ত্রের নকশা তৈরি এবং ব্যাপক নজরদারি অভিযান। খবর আল জাজিরার। 

প্রচলিত অস্ত্রের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি নতুন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, উত্তর ইয়েমেনে ক্লড এআই ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্রের নির্দেশনা সফটওয়্যার তৈরির একটি প্রচেষ্টা তারা বাধাগ্রস্ত করেছে। এর মধ্যে একটি গাইডেড রকেট এবং একটি দীর্ঘপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য সফটওয়্যার তৈরির উদ্যোগও ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

অ্যানথ্রপিকের হুমকি-বিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মানব সফটওয়্যার প্রকৌশলীদের পরিবর্তে ক্লডকে ব্যবহার করছিলেন। ক্লডের বিভিন্ন আলাদা সেশনে নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্রের নির্দেশনা ও উড্ডয়ন নিয়ন্ত্রণের সফটওয়্যার লেখা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেক অনুরোধ আটকে দিলেও কিছু অনুরোধ সেই বাধা পেরিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল বলে অ্যানথ্রপিক স্বীকার করেছে। সংশ্লিষ্ট অপারেটররা তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন রাখতে বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করেছিল। তারা কাজগুলো একাধিক আলাদা সেশনে ভাগ করে দিয়েছিল, ফলে কোনো একটি প্রম্পট দেখেই পুরো অভিযানের উদ্দেশ্য বোঝার সুযোগ ছিল না।

তবে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীটি কার্যকর কোনো অস্ত্র তৈরি করে মাঠপর্যায়ে মোতায়েন করতে পেরেছিল—এমন কোনো প্রমাণ তাদের হাতে নেই বলে জানিয়েছে অ্যানথ্রপিক। তবে প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ওই অপারেটররা একটি পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ চালানোর চেষ্টা করেছিল, যা সফল হয়নি বলে মনে হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যানথ্রপিক সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করে দিয়েছে এবং ওই গোষ্ঠীর সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীদারদের সঙ্গে তথ্য বিনিময় করেছে।

প্রতিবেদনে রাশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গুপ্তচরবৃত্তির অভিযানের কথাও বলা হয়েছে। অ্যানথ্রপিকের মতে, এ অভিযানে ‘মিডনাইট ব্লিজার্ড’ বা ‘এপিটি২৯’-এর কর্মকাণ্ডের বৈশিষ্ট্য দেখা গেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ওই অভিযানে স্বয়ংক্রিয় এআই-ভিত্তিক কার্যপ্রবাহ ব্যবহার করে প্রায় পুরো অপারেশন পরিচালনা করা হয়েছে। ফিশিং ও প্রাথমিক প্রস্তুতি থেকে শুরু করে তথ্য চুরি পর্যন্ত বিভিন্ন কাজ এআইয়ের মাধ্যমে করা হয়। ইউক্রেন, ইউরোপ এবং বিভিন্ন কূটনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোও এই অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, চীনের হুনান প্রদেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পরিচালিত একটি অভিযানও তারা বাধাগ্রস্ত করেছে বলে জানিয়েছে অ্যানথ্রপিক। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ওই শিক্ষার্থীরা মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সরকারি ও করপোরেট নেটওয়ার্কে হামলা চালানোর একটি সাইবার কর্মসূচির ‘ইঞ্জিনিয়ারিং ও সমন্বয় স্তর’ হিসেবে ক্লডকে ব্যবহার করেছিল।

রুশ-সংশ্লিষ্ট ও চীনা—উভয় ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানিয়েছে অ্যানথ্রপিক। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড শনাক্ত করতে অতিরিক্ত নজরদারি ব্যবস্থাও চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।