আত্মঘাতী ড্রোন হামলার পর মিয়ানমারের বন্ধ বিমানবন্দর

বিদ্রোহীদের আত্মঘাতী ড্রোন হামলার পর মিয়ানমারের দ্বিতীয় ব্যস্ততম মান্দালয় বিমানবন্দর দুই দিনের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। খবর এনডিটিভির। 

মধ্য মিয়ানমারের গুরুত্বপূর্ণ এই বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় ধরনের যাত্রীবাহী বিমান চলাচলের কেন্দ্র। তবে বেসামরিক বিমান হামলা সতর্কতাবিষয়ক বিভিন্ন সংগঠন এটিকে সামরিক যুদ্ধবিমান ওঠানামার রানওয়ে হিসেবেও চিহ্নিত করে আসছে।

মিয়ানমারের সামরিক-সমর্থিত সরকার জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে বিমানবন্দরটিতে ছয়টি 'আত্মঘাতী ড্রোন' হামলা চালানো হয়। এতে কেউ হতাহত না হলেও বিমান চলাচলের সময়সূচিতে বিঘ্ন ঘটে।

শুক্রবার এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, 'মান্দালয় বিমানবন্দর আজ এবং আগামীকাল বন্ধ থাকবে।' পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, হামলাটি বিমানবন্দর ভবন থেকে কিছুটা দূরে ঘটলেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিমানবন্দরটি বন্ধ রাখা হয়েছে।

মিয়ানমারের আরেকটি বিমানবন্দরে কর্মরত দ্বিতীয় এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনিও পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মান্দালয় বিমানবন্দর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রোববার পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

সামরিক বাহিনী ২০২১ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এর মধ্য দিয়ে দেশটির এক দশকের গণতান্ত্রিক যাত্রারও অবসান ঘটে।

পাঁচ বছর ধরে চলা সংঘাতের পর বর্তমানে সামরিক বাহিনী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সক্রিয় গণতন্ত্রপন্থী ও জাতিগত সংখ্যালঘু গেরিলা গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযান জোরদার করেছে।

বৃহস্পতিবারের ড্রোন হামলার ঘটনাটি মিয়ানমারের বড় কোনো শহরাঞ্চলে বিদ্রোহীদের হামলার বিরল সরকারি স্বীকৃতি। সাধারণত দেশটির বড় শহরগুলো সামরিক বাহিনীর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।

সামরিক-সমর্থিত সরকার অভ্যুত্থানের পর অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়া গণতন্ত্রপন্থী গেরিলাদের হামলার জন্য দায়ী করেছে। এসব গোষ্ঠীর মধ্যে প্রধান সংগঠন হিসেবে পরিচিত 'পিপলস ডিফেন্স ফোর্সেস' বা পিডিএফ।

সরকারের বিবৃতিতে বিমানবন্দরটিকে 'অসামরিক, জনসাধারণের পরিবহন ব্যবস্থা' হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, সেখানেই হামলা চালানো হয়েছে।

তবে হামলার স্থানটি বেসামরিক নাকি সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অবশ্য এএফপির সাংবাদিকরা অতীতে মান্দালয় বিমানবন্দরের ওপর দিয়ে সামরিক বিমান উড়ে যেতে দেখেছেন।

মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধে বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং সামরিক বাহিনী—উভয় পক্ষই এখন ড্রোন ব্যবহার করছে। কয়েকজন পর্যবেক্ষকের মতে, এই সংঘাতে এরই মধ্যে এক লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, চীন ও রাশিয়ায় তৈরি যুদ্ধবিমানসমৃদ্ধ মিয়ানমারের বিমানবাহিনী বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীর অবস্থান ধরে রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তবে সামরিক বাহিনীর বিমান শাখার বিরুদ্ধে স্কুল, বৌদ্ধ মঠ ও জনসমাগমপূর্ণ উৎসবে হামলা চালিয়ে বেসামরিক মানুষ হত্যার অভিযোগও রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এসব হামলায় ব্যাপক প্রাণহানির কথা উল্লেখ করে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ হিসেবে তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছে।