হালাল-হারাম নিয়ে কুরআনের স্পষ্ট বাণী

সব আসমানি গ্রন্থেই হালাল-হারাম প্রসঙ্গে স্পষ্টভাবে বর্ণনা হয়েছে। বিষয়টি শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত মূলনীতির (কোরআন ও সুন্নাহর) বর্ণনা নির্ভর। ইসলামে সেসব বিষয়কে বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে, শরিয়তের পরিভাষায় তা হালাল, আর যেসব বিষয়কে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে তা হারাম। দুই বিধানের উদ্দেশ্য হচ্ছে- মানবজাতির কল্যাণ সাধন এবং অকল্যাণ ও ক্ষতি থেকে রক্ষা। এসব বিধান পালনে রয়েছে মানুষের আত্মিক ও দৈহিক কল্যাণ এবং বিবেক-বুদ্ধির সুস্থতা। আল্লাহতায়ালা আমাদের ওপর থেকে সব ধরনের কঠোরতা তুলে নিয়েছেন। ‘সবকিছু বৈধ, কোনো কিছুই নিষিদ্ধ নয়’ এমন নীতিহীনতা থেকেও তিনি বাঁচিয়েছেন। আর বাস্তবেই ইসলামের হালাল-হারাম বিধান মানুষকে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ থেকে নিষ্কৃতি দিয়েছে। 

হালাল-হারাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে মানুষের এখতিয়ার নেই। শরিয়ত যা হালাল বলবে তাই হালাল, আর যা হারাম করবে তা চিরদিনের জন্য হারাম। সুতরাং কেউ যদি হালালকে হারাম বা হারামকে হালাল সাব্যস্ত করতে চায়, তাহলে সে আর মুসলিম থাকে না। আল্লাহতায়ালা হালাল-হারামকে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনি তোমাদের জন্য যা হারাম করেছেন তা বিশদভাবে তোমাদের নিকট বর্ণনা করে দিয়েছেন।’ -সুরা আনআম : ১৯ 

সকল প্রকার ক্ষতিকর বস্তুই হারাম। মানুষকে শরিয়তের বিধান দেওয়া হয়েছে তাদের কল্যাণের জন্য। তাই যেসব জিনিস অপবিত্র, নিকৃষ্ট এবং অকল্যাণকর ও ক্ষতিকর সেগুলো শরিয়ত চিরতরে হারাম ঘোষণা করেছে। যেমন- মদ, মৃতপ্রাণী, রক্ত, শূকর। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের ওপর হারাম করা হয়েছে মৃত জন্তু, রক্ত, শূকরের গোশত এবং সেই পশু যা আল্লাহ ছাড়া অন্যকারো নামে জবাই করা হয়েছে। শ্বাসরোধে মৃত জন্তু, প্রহারে মৃত জন্তু, পতনে মৃত জন্তু, অন্যকোনো পশুর শিংয়ের আঘাতে মৃত জন্তু এবং হিংস্র পশুতে খেয়েছে এমন জন্তু হারাম। তবে (মরার আগে তোমরা) যা জবাই করেছ তা ছাড়া এবং সেই জন্তুও (হারাম), যাকে (প্রতিমার জন্য) বলি দেওয়া হয় এবং জুয়ার তীর দ্বারা (গোশত ইত্যাদি) বণ্টন করাও (তোমাদের জন্য হারাম)। এসব কঠিন ও মারাত্মক গোনাহের কাজ।’ -সুরা মায়িদা : ৩ 

যে বস্তুতে অন্যের অধিকার আছে তা হারাম। যেমন- চোরাই মাল, লুটতরাজের মাল, ছিনতাইকৃত মাল ইত্যাদি। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা পরস্পরে একে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করো না এবং বিচারকের কাছে সে সম্পর্কে এই উদ্দেশ্যে মামলা দয়ের করো না যে, মানুষের সম্পদ থেকে কোনো অংশ জেনেশুনে (অন্যায়ভাবে) পাপের পথে গ্রাস করবে।’ -সুরা বাকারা : ১৮৮