সাত বছর পর ভারত সফরে শি

প্রায় সাত বছর পর প্রথমবারের মতো ভারত সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।  নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) তিনি ভারতে আসবেন বলে নিশ্চিত করেছে বেইজিং। সম্মেলনের ফাঁকে মোদির সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। খবর শিনহুয়া নিউজের।  

শির এই সফর দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের উষ্ণতা আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কূটনৈতিক অগ্রগতির বিপরীতে ভারত ও চীনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক এখনও নানা বাধার মুখে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগে নিয়ন্ত্রক জটিলতা, ভিসা পেতে দেরি এবং শিল্প সরঞ্জাম আমদানিতে বিধিনিষেধের মতো নানা সমস্যায় দুই দেশের ব্যবসায়ীরা এখনও ভুগছেন। ফলে রাজনৈতিক সম্পর্কের উন্নতির সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কের অগ্রগতির মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়ে গেছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শির দিল্লি সফর নিশ্চিত করলেও মোদির সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে কি না, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে এমন বৈঠক হলে তা দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রয়টার্সকে জানিয়েছে, শি ও মোদি মনে করেন, দুই দেশ প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার এবং একে অপরের উন্নয়নের জন্য হুমকি নয়, সুযোগ। তবে এ বিষয়ে ভারতের বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি।

গত বছর ভারত ও চীন সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় চালু করে। একই সময়ে চীনা ব্যবসায়ীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়াও কিছুটা সহজ করে নয়াদিল্লি। তবে সম্প্রতি চীনে ব্যবসায়িক স্বার্থ রয়েছে এমন কিছু ভারতীয় ব্যবসায়ী ভিসা পেতে সমস্যায় পড়েছেন বলে জানিয়েছে একটি সূত্র ও একজন শিল্পখাতের নির্বাহী। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য বলেছে, চীনে যাওয়ার প্রকৃত প্রয়োজন রয়েছে—এমন ভারতীয় নাগরিকদের আইন ও বিধি অনুযায়ী ভিসা দেওয়া হয়।

এদিকে ভারতের সৌরবিদ্যুৎ, ইলেকট্রনিকস ও অবকাঠামো উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতের জন্য প্রয়োজনীয় চীনা তৈরি যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশও দেশটির শুল্ক দপ্তরে আটকে আছে বলে জানিয়েছেন শিল্পখাতের এক নির্বাহী এবং দুই ভারতীয় সূত্র। ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য চীন থেকে আনা কয়েকটি বিশাল টানেল খননযন্ত্র এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আটকে আছে বলেও জানিয়েছেন ভারতীয় সরকারের এক কর্মকর্তা।

নয়াদিল্লিভিত্তিক থিংকট্যাংক গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের প্রতিষ্ঠাতা এবং ভারতের সাবেক বাণিজ্য আলোচক অজয় শ্রীবাস্তব বলেন, ভিসা ও সরঞ্জাম আটকে রাখার ঘটনা শুধু প্রশাসনিক জটিলতার বিষয় নয়। বরং এর মাধ্যমে বোঝা যায়, ভারতের বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত নির্ভরশীলতাকে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চীন প্রস্তুত।

তবে মোদি ও শির মধ্যে বৈঠক সফল হলে এসব বাধার কিছুটা দূর করার পথ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ভারতের সাবেক শীর্ষ বাণিজ্য কর্মকর্তা অনুপ ওয়াধাওয়ান বলেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের যেকোনো বৈঠকই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে আরও ভালোভাবে সমন্বয় করার সুযোগ তৈরি করে। তার মতে, শেষ পর্যন্ত দুই দেশের নাগরিকদের পারস্পরিক অর্থনৈতিক স্বার্থই বাণিজ্যিক সম্পর্কের মূল চালিকাশক্তি। তবে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা এই সম্ভাবনাগুলো বাস্তবায়নের পথ তৈরি করতে পারে।