দিল্লিতে মোদির সঙ্গে পুতিনের বৈঠক

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আজ থেকে শুরু হয়েছে বিশ্বের উদীয়মান অর্থনীতির জোট ‘ব্রিকস’-এর ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন। তবে সম্মেলনের পর্দা ওঠার আগেই গতকাল শুক্রবার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা করেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান। রাশিয়ার বার্তা সংস্থা রিয়া নভোস্তির ফুটেজে দেখা যায়, নয়াদিল্লির পালাম বিমান ঘাঁটিতে পৌঁছালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানান ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং। সম্মেলনে আসা বিশ্বনেতাদের স্বাগত জানাতে পুরো দিল্লির রাস্তাঘাট মোদির পোস্টারে ছেয়ে গেছে। নিরাপত্তার জন্য রাজধানীজুড়ে বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় জেলাগুলোতে যান চলাচলের ওপর ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এই সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ২০১৯ সালের পর এটিই তার প্রথম ভারত সফর। বিতর্কিত হিমালয় সীমান্তে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের ছয় বছর পর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই সফরকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাশিয়া ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার। দুই দেশের নেতাই একে অপরকে উষ্ণ আলিঙ্গন জানানোর পর তাদের এই বছরের দ্বিতীয় বৈঠকে বসেন। এর মাত্র দুই সপ্তাহেরও কম সময় আগে (গত ৩১ আগস্ট) বিশকেকে ২৬তম এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে তাদের প্রথম বৈঠক হয়েছিল। পুতিনকে মহান ভারতীয় তামিল কবি এবং দার্শনিক তিরুভাল্লুভারের লেখা ‘তিরুক্কুরাল’-এর রুশ অনুবাদও উপহার দিয়েছেন মোদি, যেটিতে কৃষি ও কৃষকদের নিয়ে ব্যাপক লেখা রয়েছে। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর মোদি ও পুতিন রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের গাড়িতে করে যাতায়াত করেন। দুই নেতার একসঙ্গে গাড়ি ভাগ করে নেওয়ার এটি তৃতীয় ঘটনা। পুতিনের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল রয়েছে। শুক্রবারের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি উভয় পক্ষকে তাদের অংশীদারত্বের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা এবং কৌশলগত গুরুত্বের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ করে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে, কয়েক দিনের কূটনৈতিক জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভারত সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বেইজিং। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ব্রিকস সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে অংশ নেবেন শি। এর আগে বৃহস্পতিবার জিনপিংয়ের ভারত সফরের বিষয়ে সরাসরি কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে দেওয়ার মতো কোনো তথ্য নেই। জিনপিংয়ের এই সফরকে ভারত-চীন সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, সাত বছর পর প্রথমবারের মতো ভারত সফরে যাচ্ছেন তিনি। ২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় দুই দেশের সেনাদের প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর নয়াদিল্লি ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক ব্যাপকভাবে তলানিতে নেমে যায়।

এর আগে, ২০১৯ সালে চেন্নাইয়ের কাছে মামাল্লাপুরমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক অনানুষ্ঠানিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে সর্বশেষ ভারত সফর করেছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট। দুই নেতাই নিজ নিজ দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রথম মেয়াদে থাকাকালে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথমবারের মতো ভারত সফর করেন শি জিনপিং। পরে ২০১৬ সালে গোয়ায় অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে দ্বিতীয়বার ভারতে যান তিনি।