মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার চরাঞ্চলে পদ্মা নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত ১৫ দিনে উপজেলার লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের জয়পুর, কবিরপুর ও বিশরশি এলাকায় নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে একের পর এক বসতভিটা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, এরই মধ্যে প্রায় ৩০০ পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে আরও কয়েকশ পরিবার। নদীভাঙনে বসতভিটা হারানো এসব মানুষের অনেকেই এখন আত্মীয়স্বজনের বাড়ি কিংবা উঁচু জায়গায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছেন। কেউ শেষ সম্বল ঘরটি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। আবার কারও চোখের সামনেই নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে বছরের পর বছর গড়ে তোলা বসতবাড়ি। অথচ ভাঙন শুরু হওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে জরুরি ভিত্তিতে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। গত বৃহস্পতিবার সরেজমিন জয়পুর, কবিরপুর ও বিশরশি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীর তীরজুড়ে ভাঙনের ক্ষত। কোথাও বসতভিটার মাটি ধসে নদীতে পড়ছে, কোথাও ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নদীর তীরে তীব্র স্রোতের কারণে মুহূর্তেই ভেঙে পড়ছে মাটির অংশ। ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলো প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করছে।
কবিরপুর এলাকার সইজুদ্দিন ম-ল বলেন, ‘গত কয়েক দিনে এই এলাকার অন্তত ২৫০ থেকে ৩০০ পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। শুধু শফি মেম্বারের কলোনিতেই প্রায় ৮০ পরিবার বাড়িঘর সরিয়ে নিয়েছে। নদীর পাড়ে প্রচ- স্রোত থাকায় ভাঙন দ্রুত বাড়ছে।’
জয়পুর এলাকার কুলছুম বেগম বলেন, ‘প্রতি বছরই এই এলাকা নদীভাঙনের শিকার হয়। আগে কিছু বালুর বস্তা ফেলা হলেও তাতে কোনো কাজ হয়নি। জরুরি ভিত্তিতে এখানে স্থায়ী বাঁধের ব্যবস্থা করা দরকার।’
লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘গত বছর আমার ইউনিয়নের প্রায় ১২০০ পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। এ বছরও গত কয়েক দিনে প্রায় ৩০০ পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছি। তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।’
হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আক্তার বলেন, ‘বিষয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে আমরা সবসময় আছি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতটুকু সহযোগিতা করা সম্ভব, তা করা হবে।’
মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মু. আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘চরাঞ্চলের এলাকার জন্য স্থায়ীভাবে কোনো ব্যবস্থা করা যায় কিনা, তা যাচাই করতে ফিজিবিলিটি স্টাডির অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে যে প্রতিবেদন পাওয়া যাবে, তার ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’