ঋণের টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে তৃতীয় লিঙ্গের ব্যবসায়ী ওয়াহেদ হোসেন ওরফে নিঝুমকে (৩৭) পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার দুই বন্ধুর বিরুদ্ধে। হত্যার আগে আসামি নাজিম উদ্দিন (৩০) মুঠোফোনে গুগলে ‘অজ্ঞান করার ওষুধের নাম কী’ এমন তথ্য খুঁজেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এরপর কোমল পানীয়ের সঙ্গে চেতনানাশক ও বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে নিঝুমকে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাজিম স্বীকার করেছেন।
নিঝুম নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর গত ১২ আগস্ট মালগ্রাম মধ্যপাড়া দীঘিপাড় এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে স্বজনরা লাশটি নিঝুমের বলে শনাক্ত করেন। নিহত নিঝুম বগুড়া মহানগরের সূত্রাপুর কসাইপাড়া এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে। এ ঘটনায় গত বুধবার বগুড়া সদর থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। মামলার বাদী নিঝুমের বড় ভাই সোহেল। মামলার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বন্ধু নাজিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক শরিফুল ইসলাম আসামি নাজিমকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। বগুড়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুল ইসলাম পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তার অপর বন্ধু মো. স্বপনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, স্টেশন সড়কে বাবার সঙ্গে ‘নিঝুম এন্টারপ্রাইজ’ নামে ফলের আড়ত পরিচালনা করতেন। নাজিম ও স্বপন বেসরকারি সংস্থা আশা’র বাবুর্চি হিসেবে কাজ করতেন। তাদের সঙ্গে নিঝুমের বন্ধুত্ব ছিল। কিছুদিন আগে ব্যবসার জন্য নিঝুম তার মায়ের নামে আশা থেকে ৭ লাখ টাকা ঋণ নেন। এর মধ্যে ৩ লাখ টাকা বাবার হাতে দেওয়ার পর অবশিষ্ট ৪ লাখ টাকা থেকে স্বপনকে ২ লাখ এবং নাজিমকে ১ লাখ টাকা ধার দেন। ওই টাকা লেনদেন নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। পুলিশের দাবি, সেই বিরোধের জেরেই নাজিম ও স্বপন নিঝুমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। নিঝুমের সঙ্গে হত্যার আগে তাদের দুজনের মুঠোফোনে কথোপকথনের তথ্যও পেয়েছে পুলিশ।