আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাকিস্তান দলের ধারাবাহিক বাজে পারফরম্যান্স এবং একের পর এক আইসিসি ইভেন্টে ব্যর্থতা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। দেশটির ক্রিকেটের এই বেহাল দশার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের বিতর্কিত এক সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধান নির্বাচক ও কোচ হারুন রশীদ। ‘স্ম্যাশ ইট’ (নামক একটি স্পোর্টস চ্যানেলের পডকাস্টে অংশ নিয়ে তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন।
ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া কাঠামোর আদলে প্রথম শ্রেণির দলের সংখ্যা ১০-১৬ থেকে কমিয়ে মাত্র ৫ বা ৬টিতে নামিয়ে আনা হয় এবং ডিপার্টমেন্টাল (প্রাতিষ্ঠানিক) ক্রিকেট বাদ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে হারুন রশীদ জানান, তিনি নিজেই তৎকালীন ক্রিকেট বোর্ডের গঠিত টাস্ক ফোর্সের সদস্য ছিলেন। তাঁরা একটি ‘হাইব্রিড মডেল’ তৈরি করেছিলেন, যেখানে দলের সংখ্যা কমিয়ে আটে নামালেও ডিপার্টমেন্টাল দলগুলোর অংশগ্রহণ বহাল রাখার প্রস্তাব ছিল। কিন্তু ইমরান খান সেই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দেন। হারুনের ভাষ্যমতে, "আমরা বলেছিলাম ধীরে ধীরে নতুন কাঠামোর দিকে যাওয়া ভালো হবে, তবে শেষ পর্যন্ত আপনাকে প্রধানমন্ত্রীর কথাই শুনতে হবে। হয়তো তাঁর উদ্দেশ্য ভালো ছিল, কিন্তু এটি পাকিস্তানের ক্রিকেটের জন্য হিতে বিপরীত হয়েছে।''
ভারতের সাফল্যের মূল রহস্য ও পাকিস্তানের করণীয়
পডকাস্টে ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটের উদাহরণ টেনে হারুন রশীদ বলেন, কেবল আইপিএল-এর কারণেই ভারত এগিয়ে আছে—এমন ভাবা ভুল। আইপিএল ছাড়াও ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে রঞ্জি ট্রফি, দুলীপ ট্রফি, সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফি এবং বিজয় হাজারে ট্রফির মতো টুর্নামেন্টগুলো নিয়মিত চালু রয়েছে। পাশাপাশি সেখানকার রাজ্য অ্যাসোসিয়েশনগুলো সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ক্লাব পর্যায়ে নিয়মিত টুর্নামেন্ট পরিচালনা করে।
পক্ষান্তরে, পাকিস্তানে এখন সমস্ত ক্ষমতা এককভাবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে আছে। পাকিস্তান ক্রিকেটের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে হলে বোর্ডের ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে এবং অতীতের মতো আঞ্চলিক অ্যাসোসিয়েশন ও ডিপার্টমেন্টাল দলগুলোকে আবারও স্বাধীনতা দিতে হবে বলে মনে করেন এই সাবেক কোচ।