জামালপুরে আমন আবাদ ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। ভালো ফলনের আশায় জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ ও সার প্রয়োগে ব্যস্ত তারা। এরই মধ্যে সার কিনতে গিয়ে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বস্তাপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে।
কৃষকদের অভিযোগ, প্রতি বস্তা ইউরিয়া সার ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা, টিএসপি ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১০০, ডিএপি ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ এবং এমওপি ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত দামে কিনতে হচ্ছে। এতে সারসহ বীজ, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরি ও সেচ খরচ মিলিয়ে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়।
কৃষকরা বলছেন, বাড়তি খরচ করে ফসল উৎপাদনের পর বাজারে ন্যায্য দাম না পেলে লোকসানে পড়তে হতে পারে। ফলে একদিকে বাড়তি দামে সার কেনার চাপ, অন্যদিকে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে জেলায় বিভিন্ন ধরনের সারের মোট চাহিদা রয়েছে ১৩ হাজার ৯৭২ মেট্রিক টন। এর বিপরীতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১১ হাজার ৯০৫ মেট্রিক টন। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম রয়েছে ২ হাজার ৬৭ মেট্রিক টন। তবে বর্তমানে জেলায় ৭ হাজার ৫৯২ মেট্রিক টন সার মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
জামিরার চরের কৃষাণী রোকিয়া বেগম জানান, আমরা কৃষি পরিবার আমাদের অন্য কোন ইনকাম নাই। মাঠে কাজ করা ছাড়া কোন আর জায়গা নাই। আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে কৃষি কাজ করে ভাত খাই। ১ একর জমিতে ধান লাগাইছি এখন পর্যন্ত এক মণ সারও পাইনি। সারের অভাবে ধান লাল হয়ে যাচ্ছে। এদিকে সবজির চারা লাগাবো সার কোথাও পাচ্ছি না।
গোপালপুরের কৃষক নাদের হোসেন বলেন, আমার যে পরিমাণ সার দরকার, খোলা বাজারে পাঁচ কেজি সারও পাইনি। এভাবে আমরা কিভাবে চলব। সারের অভাবে আবাদ করতে পারছি না বেকার হয়ে বসে আছি।
কৃষক জুয়েল রানা জানান, আমার ৪ একর জমিতে যে পরিমান সার প্রয়োজন সে ভাবে পাচ্ছি না। খোলা বাজারে বিভিন্ন উপায়ে চড়া দামে সংগ্রহ করতে হচ্ছে। বাড়তি খরচ করে জমি চাষাবাদ করছি, এখন চিন্তা হলো সময় মত ফসলের ন্যায্য মূল্য পাওয়া নিয়ে। সরকার নির্ধারিত ডিলার পয়েন্টে গেলে সার পাওয়া যায় না।
সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের দায়িত্বর উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলামের দাবি, মাঠ পর্যায়ে সারের কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সার সরবরাহ করা হচ্ছে। আমন ধানের কিছু জমিতে এরই মধ্যে ইউরিয়া সারের প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও চলছে দ্বিতীয় ডোজ প্রয়োগ। তবে একটু অসুবিধা হচ্ছে যেহেতু আমন মৌসুমে কৃষকদের কথা বিবেচনা করে আপাতত অন্য আগাম জাতে কোন ফসলে আমরা সেভাবে সার দিতে পারছি না। এই মুহূর্তে অনেক কৃষক মরিচের আবাদ নিয়েও ব্যস্ত হচ্ছে। তাদের কয়েকদিন পরে সার সরবরাহ করব।
জামালপুর সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. এমদাদুল হক বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত সার ব্যবহার করলে উৎপাদন খরচ বাড়ার পাশাপাশি কৃষকের লাভের পরিমাণও কমে যেতে পারে। তাই কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমিত ও সঠিক মাত্রায় সার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে সকল পরামর্শ দেওয়ার জন্য সব সময় কৃষকদের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে কৃষি বিভাগ। সার সংকটের কোন সুযোগ নেই। আমাদের উপসহকারী কর্মকর্তারা ডিলারের পয়েন্টে অবস্থান করে কাজেই সার নিয়ে কোন সমস্যা হওয়ার কথা না।
তবে কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি হিসাবে পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও নির্ধারিত দামে সার পাওয়া নিয়ে মাঠ পর্যায়ে তাদের ভোগান্তি রয়েছে। তাই সার বিতরণ ব্যবস্থাপনা ও বাজারে নির্ধারিত দামে সার বিক্রি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।