আইনজীবী হওয়া একটি গৌরবের অর্জন; তবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন সমুন্নত রাখা এবং মানুষের অধিকার রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করাই একজন আইনজীবীর প্রকৃত সাফল্য। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘অ্যাডভোকেট ফেলিসিটেশন প্রোগ্রাম ২০২৬’-এ স্বাগত বক্তব্যে এ কথা বলেন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক কাজী লতিফুর রেজা।
তিনি নবীন আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি সততা, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও নিয়মিত জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির বেজমেন্ট হল রুম-২-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে ২০২৬ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষা ও হাইকোর্ট এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় সফল হয়ে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় অর্ধশতাধিক সাবেক শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
স্বাগত বক্তব্যে কাজী লতিফুর রেজা আরও বলেন, 'আপনারা শুধু বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন শিক্ষার্থী নন, পেশাগত জীবনে আপনারাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি।'
তিনি বলেন, একজন আইনজীবীর পেশাগত পরিচয়ের সঙ্গে ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও আইনের শাসনের প্রতি অঙ্গীকার গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাই নবীন আইনজীবীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের অ্যালামনাইদের সঙ্গে বিভাগের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলাম নবীন আইনজীবীদের পেশাগত জীবনে সততা, নৈতিকতা, নিষ্ঠা ও নিয়মিত জ্ঞানচর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আইনের জ্ঞান ও পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি ন্যায়বিচার, মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নবীন আইনজীবীদের ধৈর্য, অধ্যবসায় ও সততার সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার এবং ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম সংবর্ধিত নবীন আইনজীবীদের অভিনন্দন জানান এবং তাদের এই সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা পেশাগত জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও মর্যাদা বৃদ্ধি করছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। তিনি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি পেশাগত দক্ষতা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের কল্যাণে অবদান রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথিদের তাদের উপস্থিতি ও সহযোগিতার স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. মো. আতীকুস সামাদ, সংযুক্ত কর্মকর্তা (অতিরিক্ত জেলা জজ), আইন ও বিচার বিভাগ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়; সৈয়দ নজরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট, সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ, সদস্য, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ও চেয়ারম্যান, বার কাউন্সিল রিলিফ কমিটি এবং ব্যারিস্টার মো. মাহফুজুর রহমান মিলন, সিনিয়র অ্যাডভোকেট, সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ, সদস্য, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ও চেয়ারম্যান, আইন সংস্কার কমিটি।
এছাড়া বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের অ্যালামনাই সৈয়দ সারোয়ার আলম নিশানকে ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় বিশেষ অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি ল’ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি ল’ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আতিকুর রহমান সোহান ও অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা মো. মাজহারুল ইসলাম মারুফ বক্তব্য দেন। তারা নবীন আইনজীবীদের অভিনন্দন জানান এবং তাদের পেশাগত জীবনের সাফল্য কামনা করেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সঙ্গে অ্যালামনাইদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত নবীন আইনজীবীদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মো. রাজিউল আলিম, প্রভাষক ও কো-অর্ডিনেটর, আইন বিভাগ, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি।
অনুষ্ঠানে আইন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই এবং সংবর্ধিত নবীন আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।