প্রকৃতিতে যার যত বেশি অভিযোজন ক্ষমতা, তার টিকে থাকার সম্ভাবনাও তত বেশি। শিল্প-সাহিত্যে এই অভিযোজন প্রক্রিয়া নির্ভর করে কালোত্তীর্ণ রচনার মানদণ্ডে। তাই সমকালে তুমুল জনপ্রিয় সাহিত্যিকও যেমন কালের স্রোতে হারিয়ে যান, তেমনি সমকালে অনালোচিত-উপেক্ষিত সাহিত্যিকও কালের পরিক্রমায় ক্রমে উজ্জ্বল হয়ে ওঠেন। নিজের সময়ে প্রায় উপেক্ষিত-অনালোচিতই ছিলেন শহীদুল জহির। ১৯৮৭ সালে প্রথম উপন্যাস প্রকাশিত হয়। জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা উপন্যাসটি আজ পাঠক-সমালোচকদের মধ্যে ব্যাপক পঠিত ও আলোচিত। কিন্তু প্রথম প্রকাশের পর সেই মুগ্ধতার আলোকচ্ছটা স্পষ্ট হতে দেখেননি লেখক। পাঠক-সমালোচক কোনো পক্ষ থেকেই প্রাপ্য মেলেনি। বরং রয়ে যান প্রায় অনাবিষ্কৃত। ২০০৮ সালের ২৩ মার্চ লোকান্তির হওয়ার আগে রেখে যান সাতটি উপন্যাস ও তিনটি ছোটগল্প সংকলন, যা কালক্রমে বাংলা সাহিত্যের অবশ্যপাঠ্য রচনা হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছে পাঠকের মনে।
শহীদুল জহির লোকান্তরিত হওয়ার পরে সময় যত গড়িয়েছে, তার সৃষ্টিকর্ম তত বেশি উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। বাংলা ভাষায় জাদুবাস্তবতার কারিগর হিসেবে খ্যাতি পেয়েছেন, ক্রমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন অন্যতম প্রভাবশালী লেখক হিসেবেও। যদিও সম্প্রতি কোনো কোনো সমালোচক তার সাহিত্যকর্মকে নাকচ করে দেওয়ার প্রবণতাও দেখিয়েছেন। কিন্তু তাকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই; সেই সত্যও স্পষ্ট হচ্ছে তাকে ঘিরে পত্রপত্রিকার আলোচনা-প্রবন্ধ-নিবন্ধে। অন্তর্জালে বুঁদ হয়ে থাকার এই অস্থির সময়েও শহীদুল জহিরের পাঠকের সংখ্যা বাড়ছে। বাড়ছে তাকে নিয়ে চর্চাও।