বোয়ালমারীতে আধিপত্য নিয়ে এক মাসে ৫ বার সংঘর্ষ, আহত ৪০

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সীমান্তবর্তী ময়েনদিয়া বাজারের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত এক মাসে অন্তত পাঁচবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফের সংঘর্ষে জড়িয়েছে বোয়ালমারীর পরমেশ্বরদী ও পাশের সালথা উপজেলার খারদিয়া গ্রামের লোকজন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কুমার নদে নির্মিত একটি বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপারকে কেন্দ্র করে শনিবার দুপুরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এ সময় পরমেশ্বরদী গ্রামের ইনু মোল্যাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে জিহাদ সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর পরমেশ্বরদী গ্রামের লোকজন সাঁকোটি ভেঙে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে খারদিয়া গ্রামের একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরমেশ্বরদীর কাজীপাড়ায় হামলা চালায় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এ সময় ফজলু শেখ, জাকারিয়া, শাহজাহান, শাহজালাল, শাহ আলম, আমিন মোল্যা ও বিল্লাল হোসেনের সাতটি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

হামলায় পরমেশ্বরদী গ্রামের শহীদ বিশ্বাসের ছেলে কামরুল বিশ্বাস গুরুতর আহত হন। তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের অন্তত ১৪টি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।

পরে স্থানীয়রা কামরুলকে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ইন্দ্রাণী জানান, আহত কামরুলের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের ১৪টি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, ময়েনদিয়া বাজারের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পরমেশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের অব্যাহতি পাওয়া চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আব্দুল মান্নান মাতুব্বরের সঙ্গে সালথার খারদিয়া গ্রামের মুশফিক বিল্লাহ জিহাদের সমর্থকদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। মুশফিক বিল্লাহ জিহাদ মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক জামায়াত নেতা মাওলানা আবুল কালাম আজাদের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, এর আগে কয়েক দফা সংঘর্ষের পর দুই উপজেলার পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে আপস-মীমাংসা হয়। তবে এরপরও পরপর দুবার হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ সংঘর্ষের পর এলাকাটিতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো সময় ফের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হামলায় একজন আহত হয়েছেন। দুই পক্ষ বর্তমানে নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করছে। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।