বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে হঠাৎ দেওয়া বড় ঝটিকা মিছিলের প্রসঙ্গ তুলে প্রশাসনের ভূমিকা ও নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। বৈঠকে এ ধরনের তৎপরতা শক্ত হাতে দমনের বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন তারা।
শনিবার রাতে গুলশান কার্যালয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ও যেকোনো ধরনের পুনরুজ্জীবনের চেষ্টা রুখে দিতে দল ও প্রশাসন উভয়কেই আরও কঠোর ও তৎপর হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদেরও এ বিষয়ে সতর্ক থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির নীতিনির্ধারকরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত অপরাধ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে পতিত আওয়ামী লীগের ইস্যুতে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের যেকোনো অপতৎপরতা রুখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি দলীয়ভাবেও কঠোর অবস্থান বজায় থাকবে।
বৈঠক শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঢাকাসহ সারাদেশে প্রচারপত্র বিতরণ করবে বিএনপি। দেশের নামকরা চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের দিয়ে তৈরি করা হবে ওই প্রচারপত্র। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, রেডিও ও টেলিভিশনে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান বারবার প্রচার এবং স্কুল, মাদরাসা, কলেজ ও হাট-বাজারে আবর্জনা রাখার জন্য বিন স্থাপনে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আগের সভার বিভিন্ন বিষয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেসব বিষয় মীমাংসিত হয়নি, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব পায়।
রিজভী বলেন, শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী সারাদেশের জেলা ও উপজেলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিনি যেসব কার্যক্রম নিয়েছেন, সেগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়নের বিষয়টি বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নির্দেশনাগুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে এবং তাকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সব হাসপাতালে মশারি সরবরাহ করা হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও ডেঙ্গু সংক্রমণ থেকে দেশের মানুষকে রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া উদ্যোগগুলোর মধ্যে এটিও অন্যতম।
রিজভী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, রেডিও ও টেলিভিশনে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে। এসব অনুষ্ঠান বারবার প্রচার করা হবে। দল ও সরকারের নেওয়া ডেঙ্গু প্রতিরোধমূলক এবং সচেতনতামূলক কর্মসূচিগুলো সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে বিএনপি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে আবর্জনা ব্যবস্থাপনার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে বিএনপি। রিজভী বলেন, স্কুল, মাদরাসা, কলেজ ও হাট-বাজারে আবর্জনা রাখার জায়গা থাকে না। সেখানে আবর্জনা রাখার জন্য বিন স্থাপনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ডেঙ্গু ছাড়াও সাংগঠনিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে বলে জানান রিজভী। দলের বিভিন্ন কমিটিতে কেউ মারা গেছেন, কেউ বিভিন্ন কারণে দলের মধ্যে নেই, আবার কেউ বহিষ্কৃত হয়েছেন—এভাবে যেসব শূন্যপদ সৃষ্টি হয়েছে, সেগুলো পূরণের বিষয়টি বৈঠকে আলোচনা হয়।
রিজভী বলেন, এসব শূন্যপদে সংশ্লিষ্ট কমিটির ‘ইমিডিয়েট নিচে’ যারা আছেন, তাদের পদোন্নতি দেওয়া যায় কি না, তা দলের গঠনতন্ত্রের বিধান অনুযায়ী দেখা হবে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বৈঠকে বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও বর্তমানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শূন্য আসনের নির্বাচন নিয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী ২৯ অক্টোবর ওই আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান রিজভী।
তিনি বলেন, ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর নয়াপল্টনে দলের কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র উত্তোলন করতে পারবেন প্রার্থীরা। ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে।
১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মনোনয়ন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিই মনোনয়ন বোর্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। ওই সভায় চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে।
রিজভী বলেন, ২৯ অক্টোবরের শূন্য আসনের নির্বাচনে দলের প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য এটিই বিএনপির দলীয় সময়সূচি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, সাংগঠনিক শূন্যপদ পূরণের বিষয়ে আলোচনা হলেও কাউন্সিল নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
তিনি বলেন, বিষয়টি জেলা-উপজেলা পর্যায়ের। এসব পর্যায়ে অনেকে মারা যাওয়ায় শূন্যপদ সৃষ্টি হয়েছে।
রিজভী জানান, বৈঠকে নতুন সদস্য হিসেবে তিনি, ডাকসুর সাবেক ভিপি আমানউল্লাহ আমান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ ও চিকিৎসক ফরহাদ হালিম ডোনার প্রথমবারের মতো বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় অংশ নেন।
এ ছাড়া বৈঠকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় অংশ নেন। তবে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না।