মানুষ সফল হতে চায়। অর্থ, সম্পদ ও প্রভাব অর্জনের জন্য ছুটে চলে। সাফল্যের এই পথে কখনো কখনো অন্যের প্রাপ্য অধিকারকে উপেক্ষা করার প্রবণতা তৈরি হয়। কেউ শ্রমিকের মজুরি আটকে রাখে, কেউ ব্যবসায় প্রতারণা করে, কেউ উত্তরাধিকারে বঞ্চিত করে, আবার কেউ দরিদ্রের প্রাপ্যটুকুও নিজের সম্পদ মনে করে ভোগ করে। বাহ্যিকভাবে এসব মানুষকে সফল মনে হলেও ইসলামের দৃষ্টিতে অন্যের হক নষ্ট করে অর্জিত সাফল্য প্রকৃত সাফল্য নয়।
ইসলাম মানুষের সম্পদ অর্জনকে নিষিদ্ধ করেনি। বরং হালাল উপায়ে উপার্জন করতে উৎসাহিত করেছে। কিন্তু সেই সম্পদের সঙ্গে অন্য মানুষের অধিকারও জড়িয়ে থাকতে পারে। কারও পাওনা টাকা আটকে রাখা, আমানতের খেয়ানত করা, উত্তরাধিকার থেকে কাউকে বঞ্চিত করা কিংবা কোনো দুর্বল মানুষের প্রাপ্য অধিকার কেড়ে নেওয়া গুরুতর অন্যায়।
বিশেষ করে বান্দার হক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ আল্লাহর কাছে তওবা করে নিজের গুনাহ থেকে ক্ষমা চাইতে পারে। কিন্তু কারও সম্পদ আত্মসাৎ করলে শুধু মুখে ক্ষমা চাওয়াই যথেষ্ট নয়। যার অধিকার নষ্ট করা হয়েছে, তার অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। সম্ভব হলে তার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। কারণ বান্দার হকের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অধিকার ও সম্মানের সঙ্গে জড়িত।
অন্যের হক আটকে রেখে সম্পদ হয়তো বাড়ানো যায়, কিন্তু তাতে বরকত আসে না। একজন ব্যবসায়ী প্রতারণা করে বেশি লাভ করতে পারেন। একজন মালিক শ্রমিকের মজুরি আটকে রেখে নিজের সম্পদ বাড়াতে পারেন। কেউ উত্তরাধিকারীদের বঞ্চিত করে বড় সম্পদের মালিক হতে পারেন। কিন্তু এসব অর্জন তাকে আল্লাহর কাছে সফল করে না।
প্রকৃত সাফল্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। সম্পদ মানুষের হাতে থাকবে, কিন্তু সম্পদের মালিকানার অহংকার তার হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া উচিত নয়। বরং আল্লাহ যে নেয়ামত দিয়েছেন, তার মাধ্যমে নিজের প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি অন্যের প্রাপ্য অধিকারও আদায় করতে হবে।
আজ যে সম্পদ নিজের বলে মনে হচ্ছে, আগামীকাল সেটি অন্যের হাতে চলে যেতে পারে। মানুষের প্রকৃত অর্জন তার ব্যাংক হিসাব বা সম্পদের পরিমাণে নয়, বরং সে সম্পদ কীভাবে অর্জন করেছে এবং কীভাবে ব্যয় করেছে, তার ওপর।
তাই জীবনে সাফল্য চাইলে অন্যের অধিকার রক্ষা করতে হবে। শ্রমিককে তার ন্যায্য মজুরি দিতে হবে। কারও পাওনা থাকলে তা পরিশোধ করতে হবে। উত্তরাধিকার বণ্টনে ইনসাফ করতে হবে। আমানত যথাযথভাবে ফিরিয়ে দিতে হবে। দরিদ্রের অধিকার আদায় করতে হবে। নিজের সম্পদে অন্যের হক থাকলে তা যথাযথভাবে পৌঁছে দিতে হবে।
লেখক : ইসলামি গবেষক