জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধে ভ্যাকসিন

ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস

সহকারী অধ্যাপক, গাইনি ও প্রসূতি বিভাগ

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

বিশ্বজুড়ে নারীদের মৃত্যুর একটি বড় কারণ জরায়ুমুখের ক্যানসার (Cervical Cancer)। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এটি এমন এক ক্যানসার, যাকে ভ্যাকসিনের মাধ্যমে প্রায় শতভাগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। আমাদের দেশে অনেক নারীই লজ্জা বা অসচেতনতার কারণে এই বিষয়ে কথা বলতে দ্বিধা করেন। কিন্তু একটু সচেতনতা এবং সঠিক সময়ে টিকা গ্রহণ বহু অকাল মৃত্যু রোধ করা সম্ভব।

জরায়ুমুখের ক্যানসারের প্রধান কারণ হলো হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (Human Papillomavirus ev HPV)-এর দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ। অনিরাপদ শারীরিক সম্পর্ক, অল্প বয়সে বিয়ে, বারবার গর্ভধারণ এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অভাব এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এইচপিভি ভ্যাকসিন মূলত শরীরে এই বিপজ্জনক ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে, ফলে ক্যানসারের ঝুঁকি শূন্যের কোঠায় নেমে আসে।

টিকা কখন নেবেন

চিকিৎসাবিজ্ঞানের আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোরীদের জন্য এই টিকা নেওয়া সবচেয়ে বেশি কার্যকর। যৌন সম্পর্ক শুরুর পূর্বে টিকা দিলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়। এ বয়সে কেবল ২টি ডোজই যথেষ্ট। তবে ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী নারীরাও চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ৩টি ডোজে এই ভ্যাকসিন নিতে পারেন। বিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে ভ্যাকসিনের পাশাপাশি নিয়মিত ‘প্যাপ স্মিয়ার’ (PAP Smear)  বা VIA পরীক্ষা করা উচিত, যাতে কোনো ক্যানসারপূর্ব লক্ষণ থাকলে তা শুরুতেই ধরা পড়ে।

অনেকের মনে ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে যে, এই ভ্যাকসিনের গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে বা প্রজনন ক্ষমতায় প্রভাব ফেলে। এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। সুস্থ পরিবার ও সুন্দর জীবনের জন্য কন্যাসন্তান ও নারীদের এইচপিভি টিকাদান অত্যন্ত জরুরি। রোগ হওয়ার পর চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। সচেতন হন এবং নিকটস্থ চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে ভ্যাকসিন নিশ্চিত করুন।