ভালো করার দ্বিতীয় কোনো রাস্তা নেই

প্রতিভার ঝলক এতটাই ছিল যে, টানা দুবার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পান শেখ পারভেজ জীবন। এরপর হঠাৎ করেই হারিয়ে যান এই অফ স্পিন অলরাউন্ডার। বোর্ডের কোনো কর্মসূচিতেই ডাক পাননি। তবে নিজের ওপর বিশ্বাস হারাননি তিনি। সুযোগ পেতেই দুই টুর্নামেন্টে ২৩ উইকেট নিয়ে নিজের সামর্থ্য জানান দেন। তরিকুল ইসলাম সজলের সঙ্গে আলাপে নিজের কঠিন পথচলার গল্প তুলে ধরেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলের এই ক্রিকেটার

মালয়েশিয়া সফরের পর জিডি ট্রফিতেও সর্বাধিক উইকেট সংগ্রাহক হলেন। নিজের পারফরম্যান্স কতটা উপভোগ করছেন?

জীবন : সাফল্য পেলে কার না ভালো লাগে! খুব ভালো লাগছে যে পরিশ্রমের ফল পাচ্ছি। জানেন তো, অনেক দিন পর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরেছি। কোথাও ছিল না। যুব বিশ্বকাপ খেলার পর বলা যায় তো একপ্রকার হারিয়েই গিয়েছিলাম। তবে নিজের ওপর কখনো বিশ্বাস হারাইনি। এ জন্য অল্প সময়ের মধ্যে নির্বাচকদের দৃষ্টিতে আসতে পেরেছি। সুযোগ পেয়ে নিজে নিজেকে শুধু একটাই কথা বলেছি, ‘আমাকে ভালো করতেই হবে’ দ্বিতীয় কোনো রাস্তা নেই। চেষ্টা করেছি ম্যাচ ধরে ধরে নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার। তবে প্রথম লক্ষ্যই ছিল ধারাবাহিকভাবে ভালো করা।

সে লক্ষ্যে তো সফল হয়েছেন বলা যায়। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩ ইনিংসে ১৩ উইকেট। জিডি ট্রফিতে ৪ ইনিংসে ১০ উইকেট। কিন্তু ব্যর্থ হলে আবার ছিটকে পড়ার তো ভয়ও ছিল?

জীবন : আসলে জীবনের সবকিছুই চ্যালেঞ্জিং। ক্রিকেটের প্রতিটি ম্যাচেও সে রকম চ্যালেঞ্জ থাকে। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে যখন সুযোগ পেলাম, পারফর্ম করলাম, তখন আসলে আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায়। এরপর আমি সব ম্যাচকেই একইভাবে নিয়েছি এবং নিজের কাজটা ঠিকভাবে করার চেষ্টা করেছি। আমার সবসময় পরিকল্পনা থাকে ডট বল করা। টানা বল করলে ব্যাটসম্যান ভুল করতে বাধ্য হয়। সে সুযোগটা আমি কাজে লাগাই।

একটু পেছনে ফিরতে চাই। দুবার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলেছেন ঠিকই, তবে এরপর বোর্ডের কোনো কর্মসূচিতেই জায়গা পাননি। বোর্ডের সুযোগ-সুবিধার বাইরে থেকে নিজেকে প্রস্তুত করা কতটা কঠিন ছিল?

জীবন : আমি সবসময় চেষ্টা করেছি, আমার সামর্থ্য অনুযায়ী যতটা ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়া যায়। যেহেতু অনেক দিন দলের সঙ্গে ছিলাম না, তাই নিজের ওপর সবসময় বিশ্বাস রাখতে হয়েছে। কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। ভালো অনুশীলন, জিম, রানিং, ঘুমসহ যেগুলো একজন ক্রিকেটারের জন্য প্রয়োজন, সবকিছু ঠিকভাবে করার চেষ্টা করেছি। আমি সবসময় নিজের জায়গা থেকে সৎ ছিলাম। বিশ্বাস ছিল খুবই দ্রুতই আবার সেটআপে ফিরব। আল্লাহ আমাকে এই কঠোর পরিশ্রমের ফল দিচ্ছেন।

আপনি মূলত অফ স্পিন অলরাউন্ডার। ব্যাটিংয়ের থেকে বেশি বোলিংটাই আপনার শক্তির জায়গা। বাংলাদেশ ক্রিকেটে আপনার মতো অনেক অফ স্পিনার আছেন। এই প্রতিযোগিতায় আপনি ফেরার আত্মবিশ্বাস কীভাবে পেয়েছেন?

জীবন : পারফরম্যান্সই আমার শক্তির জায়গা, আমার বিশ্বাসের জায়গা। আমি শুধু একটা সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম। খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন দেখার দিন থেকেই আমি জানি, আমাকে কঠিন পরিশ্রম করতে হবে। এর মাঝে আমি চেষ্টা করছি আরও কিছু নতুন জিনিস নিয়ে কাজ করতে। কিছু বিষয় এখনো অনুশীলনের পর্যায়ে আছে। সেগুলো পুরোপুরি আয়ত্তে আসেনি, তাই ম্যাচে এখনো সেভাবে প্রয়োগ করিনি। যখন মনে হবে পুরোপুরি আয়ত্তে এসেছে, তখন ইনশাআল্লাহ ম্যাচে প্রয়োগ করব।

আপনি নিচের দিকে দ্রুত রানও তুলতে পারেন। নিজেকে শুধু অফ স্পিনার হিসেবেই তৈরি করছেন, নাকি অলরাউন্ডারও?

জীবন : অফ স্পিন আমার শক্তির জায়গা হলেও আমি নিজেকে একজন উপযুক্ত অলরাউন্ডার হিসেবেই ভাবি। সেখানে তৈরি হচ্ছি। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে সিরিজে ব্যাটিং ও বোলিং দুটিতেই ভালো করার চেষ্টা করেছি। তবে জিডি ট্রফিতে ব্যাটিংয়ের তেমন সুযোগ পাইনি। হয়তো কয়েকটি বল খেলতে পেরেছি। তখন নিজের মতো করে চেষ্টা করেছি। আমি যেহেতু অলরাউন্ডার, তাই ব্যাটিং-বোলিং দুই জায়গায়ই নিজের সেরাটা দিতে চাই।

এমন পারফরম্যান্সের পর কতটা আত্মবিশ্বাসী যে এইচপি বা বিসিবির পরবর্তী অন্য কোনো কর্মসূচিতে জায়গা পাবেন?

জীবন : যদি বলেন, পারফরম্যান্স করে কোনো বার্তা দিয়েছি, তবে আমি বলব, আসলে বিষয়টি সেভাবেও দেখছি না। আমি একজন ক্রিকেটার, আমার কাজ যেখানে সুযোগ পাব, সেখানেই ভালো খেলব। কোথায় খেলব বা কোন সেটআপে থাকব, সেটা নির্বাচকদের বিষয়। আমার কাজ নিজের প্রস্তুতি ঠিক রাখা এবং সুযোগ পেলে ভালো পারফর্ম করা। সামনে কী হবে, সেটা সময়ই বলে দেবে। আপাতত আমার লক্ষ্য নিজেকে আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করা এবং সুযোগ পেলে পারফর্ম করা।