তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটসহ জনগণের বিভিন্ন দাবি নিয়ে আন্দোলন করলে স্বৈরাচার ফিরে আসবে এমন হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সরকার জনগণের রায়ের বরখেলাপ করেছে। জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে বগুড়া সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে একথা বলেন।
এর আগে সকালে বিরোধীদলীয় নেতা বগুড়ার ধুনট উপজেলার মানিকপোটল মাদ্রাসা মাঠে উপস্থিত মানুষের উদ্দেশে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, কৃষক সার পায় না, জনগণ বিদ্যুৎ পায় না। তবে এক জায়গায় পাওয়া যায়, সেটা সংসদের ভেতরে। বিদ্যুৎ ও সারের সংকট থাকলেও তারা ভিন্ন তথ্য দেয়। বাংলাদেশ ভালো নেই, রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস বেহায়পনা। আমরা গ্যাস জ্বালানি সংকটের সমাধানে কাজ করতে চাই, তবে সরকার সুযোগ দেবে না।
এভাবে সমাজ চলতে পারে না। আমূল পরিবর্তন দরকার, এজন্য আমরা ডাক দিয়েছি, রাস্তায় নেমেছি। ডা. শফিকুর এদিন ওই গ্রামের ইসলামি শিক্ষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ হিসেবে পরিচিত আব্দুল মালেকের কবর জিয়ারত করেন।
বগুড়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ডা. শফিকুর বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ৫৫ বছর অতিক্রম করেছে। একটি জাতির জন্য এ সময় কম নয়। অথচ একই সময়ে মালয়েশিয়া বিশে^ নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। সঠিক পরিকল্পনা, সংস্কার ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশও এগিয়ে যেতে পারে।
দেশের শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শিল্পের মূল শক্তি হলো বিদ্যুৎ, গ্যাস, তেল। আরেকটা হলো সৌরশক্তি। কিন্তু শিল্পগুলোতে এর সরবরাহ হচ্ছে না। শিল্পের মারাত্মক খারাপ অবস্থা। বিজিএমইএ জানিয়েছে, উৎপাদন সক্ষমতা নেমে এসেছে ৫০ শতাংশের নিচে। তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যবসায়ীরা তাদের উৎপাদন করতে পারছে না। আমাদের বৃহত্তর রপ্তানি খাতের যদি এ অবস্থা হয়, তাহলে বাকিগুলোর অবস্থা কী হবে। তা এমনি বোঝা যায়।’
ডা. শফিকুর বলেন, আমাদের একটা টেকনিক্যাল এক্সপার্ট টিম রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সুযোগ দিলে আমরা এই টিমকে সরকারকে উপহার দিতে চাই। তারা এক কাতারে যারা সরকারে এই সেক্টরে কাজ করে তাদের সঙ্গে কাজ করবে। দেশকে ভালবাসি, এজন্য এই অফার। বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরোধী দল সরকারকে এমন অফার দিয়েছে আমার জানা নেই। তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট নিয়ে সংসদে কথা বলেছি। কিন্তু সরকার অস্বীকার করছে। তারা দায়িত্বজ্ঞানহীন, অবান্তর কথা বলছে।
তিনি বলেন, আমরা বিদ্যুতের দাবির সঙ্গে আরও পাঁচটি দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু করেছি। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, বৈষম্য দূরীকরণ, বেপরোয়া দলীয়করণ বন্ধ করা, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা, কৃষকের জন্য সার সরবরাহ নিশ্চিত করা। আন্দোলনে ইতিমধ্যে আমরা লংমার্চ শুরু করেছি।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে ডা. শফিকুর বলেন, জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। জনগণ গণভোট দিয়েছে। ৬৮.৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে। দেশের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় দিয়েছে। কিন্তু সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই তাদের দেওয়া ওয়াদা তারা ভুলে গেলেন। জনগণের দেওয়া ওয়াদা তারা রক্ষা করলেন না। জনগণের সঙ্গে করা ওয়াদার বরখেলাপ করেছে তারা। তাই সংসদে সমাধান না পেয়ে রাজপথে নেমেছি।
স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও বগুড়ায় বড় কোনো উন্নয়ন হয়নি মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘বগুড়া কেন উপেক্ষিত অবহেলিত আমি জানি না। বগুড়া উপেক্ষিত থাকবে কেন। আমরা চাই বগুড়া তার ন্যায্য পাওনাটুকু পেয়ে যাক।’
মতবিনিময়কালে বগুড়া মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল, ইফসুর মহাসচিব ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজসহ স্থানীয় জামায়াত নেতারা এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। এরপর দুপুরে ডা. শফিকুর শহরের নওদাপাড়া মমইন হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের অডিটোরিয়ামে জেলা জামায়াত আয়োজিত রুকন সম্মেলনে যোগ দেন। বিকেলে বগুড়া জামিল মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন।