লালবাগে আইনজীবীর অর্ধগলিত ও আদাবরে নারীর খন্ডিত লাশ

রাজধানীর লালবাগে আনোয়ার হোসেন (৪৫) নামে ঢাকা জজকোর্টের সাবেক এক আইনজীবীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লালবাগের শহীদনগরের বউবাজার ৩ নম্বর গলির একটি বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আনোয়ার মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থানার গোয়ালগাঁও গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে।

এদিকে রাজধানীর আদাবরে হাত ও গলাকাটা অবস্থায় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহটি প্রায় ১০ টুকরো করা হয়েছিল। গতকাল আদাবর ১০ নম্বরের হাক্কার মোড় এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

লালবাগ থানার ওসি মোহাম্মদ জামিল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, দুই থেকে তিন দিন আগে আনোয়ার হোসেনের মৃত্যু হয়েছে। পাশের কক্ষের এক ভাড়াটিয়া তাকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। লালবাগ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করে। পরে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেন। নিহতের রুমে ১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, গ্যাস লাইটার ও মাদক সেবনে ব্যবহৃত কিছু উপকরণ পাওয়া গেছে।

মরদেহ সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আনোয়ারের বড় বোন নাসিমা বেগম দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার পর থেকে আনোয়ারের ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। আনোয়ার কামরাঙ্গীরচরের আগের বাসা ছেড়ে গত ৪ সেপ্টেম্বর লালবাগের ওই ভাড়া বাসায় ওঠেন। মায়ের মৃত্যুর পর থেকে তিনি আলাদা থাকা শুরু করেন। পরিবারের সদস্য বা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে তার খুব একটা যোগাযোগ ছিল না। তিনি অবিবাহিত ছিলেন এবং কিছুটা নেশাগ্রস্ত ও ডিপ্রেশনে ছিলেন। চার ভাই-বোনের মধ্যে আনোয়ার ছিলেন সবার ছোট।

সহকর্মী অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ জানান, আনোয়ার মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিলেন। তিনি কারও সঙ্গে তেমন মেলামেশা করতেন না এবং আদালতে নিয়মিত আসতেন না। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নানা সমস্যায় তিনি বেশ কিছুদিন ধরে একা থাকতেন। তিনি অবিবাহিত এবং ওই বাসায় ব্যাচেলর হিসেবে ভাড়া থাকতেন। ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে সে অনিয়মিত ছিলেন।

আদাবর থানার ওসি মো. জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আদাবর ১০ নম্বর হাক্কার মোড় এলাকার খাল থেকে খণ্ডিত ও গলিত এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে নারীর দুটি বিচ্ছিন্ন হাত ও মাথা উদ্ধার করেছে। তবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। মাঝবয়সী এ নারীর মরদেহ শনাক্তে সিআইডি এবং পিবিআইকে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে আশপাশের সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। কী কারণে এবং কারা তাকে হত্যা করেছে, সেই বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা ওই নারীকে হত্যার পর মরদেহটি টুকরো করে ব্যাগে ভরে খালপাড়ে ফেলে রেখে গেছে। মরদেহের পরিচয় শনাক্তসহ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।

জাতীয় ঈদগাহর পাশে মিলল দুই মরদেহ : রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে একজনের বয়স আনুমানিক ৬৫ এবং আরেকজন ৪৫। শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক তৌফিক হাসান বলেন, পৃথক স্থানে দুই ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখে পথচারীরা থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে জাতীয় ঈদগাহর প্রধান ফটকের উত্তর পাশের ফুটপাত থেকে একজনের এবং সুপ্রিম কোর্টসংলগ্ন শিক্ষা ভবনের বিপরীত পাশ থেকে আরেকজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তিনি বলেন, অচেতন অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানায়, স্থানীয়দের মুখে জানা গেছে মৃত দুজনই ভবঘুরে প্রকৃতির ছিলেন এবং ওই এলাকায় থাকতেন। তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের নাম-পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।