জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক সরবরাহ সীমিত করছে সৌদি আরব

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে ইরাক থেকে উৎক্ষেপণ করা ড্রোন হামলার পর একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন বন্ধ করে দিয়েছে সৌদি আরব। খবর বিবিসির।  

ইরাক জানিয়েছে, প্রতিবেশী সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে যে ড্রোন হামলা হয়েছে, সেটি ইরানের সীমান্তবর্তী দেশটির একটি প্রদেশ থেকে পরিচালিত হয়েছিল। বিষয়টি স্বীকার করার পর ইরাকের সরকার এক সামরিক কমান্ডারকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে এবং হামলার তদন্ত শুরু করেছে।  

এর আগে সৌদি আরব একাধিকবার অভিযোগ করেছে, ইরান-সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো দেশটির তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।

প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার (৭৪৫ মাইল) দীর্ঘ এই পাইপলাইন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরবকে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

এদিকে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বড় ধরনের অগ্রগতির মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটল। এতে বৈশ্বিক তেল পরিবহনপথের ওপর চাপ আরও বাড়ছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ সপ্তম মাসে গড়িয়েছে। 

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের বাহিনী জানিয়েছে, তারা উপকূলীয় শহর মোকায় হুতি যোদ্ধাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এর এক দিন আগে হুতিরা লোহিত সাগরের পুরো উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছিল। 

শুক্রবার সৌদি আরব জানায়, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তারা পাইপলাইনটি বন্ধ করে দিয়েছে। এর মধ্যেই ওই এলাকার স্যাটেলাইট ছবিতে পোড়া মাটি ও ধোঁয়ার চিহ্ন দেখা যায়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ও বিশ্লেষকদের বরাতে জানিয়েছে, সৌদির এই পাইপলাইন দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশ পরিবহন করা হচ্ছিল।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের পর সৌদি আরব আপাতত পাল্টা হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এক বিবৃতিতে সৌদি সরকার বলেছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরাকের ভূখণ্ড থেকে হামলা বন্ধে ইরাকি সরকারের প্রচেষ্টাকে তারা সমর্থন করবে।

তবে বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষা, স্থাপনা সুরক্ষা এবং নাগরিক ও বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সৌদি আরব সংরক্ষণ করে।