পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে ট্রলার দুর্ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া ছাত্রদল নেতা রাকিবুজ্জামান রকির মরদেহ দুইদিন পর উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের চরকুড়ুলিয়া আকাতের ঘাট এলাকায় পদ্মার শাখা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত রাকিবুল ইসলাম রকি ঝিনাইদহের শৈলকূপা পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব। ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশাদুর রহমান মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চরকুড়ুলিয়া গ্রামের শিক্ষক সেলিম রেজা জানান, রবিবার সকাল ৯টার দিকে চরকুড়ুলিয়া গ্রামের আকাতের ঘাট এলাকায় পদ্মার শাখা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। পরে খবর দেওয়া হয় লক্ষীকুন্ডা নৌ-পুলিশকে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
লক্ষীকুন্ডা নৌ পুলিশ সুত্র জানায়, শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ৯টার দিকে একটি পিকনিকের নৌকা পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ৫নং পিলারে ধাক্কা খায়। এতে ছাত্রদল নেতা রকিসহ তিনজন নদীতে ছিটকে পড়ে নিখোঁজ হন। খবর পেয়ে নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ওই সময় মো. লিটন (৩৮) ও মো. ওয়াহাব (৪৫) নামে দুইজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তবে রকির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নৌকায় থাকা যাত্রীরা সাংবাদিকদের জানান, শুক্রবার সকালে কুষ্টিয়ার গড়াই নদীর কাতলাগাড়ী থেকে নৌকাযোগে পদ্মা নদীতে পিকনিকে বের হয় শতাধিক মানুষ। দিনভর পিকনিক শেষে রাতে ফেরার পথে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের কাছে পৌঁছালে নৌকাটি ব্রিজের ৫নং পিলারে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে কয়েকজন যাত্রী নদীতে পড়ে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ধার অভিযান চালিয়েও রকির সন্ধান না পাওয়া যায় না। অবশেষে ঘটনার দুইদিন পর ঈশ্বরদী উপজেলার চরকুড়ুলিয়া আকাতের ঘাট এলাকায় পদ্মার শাখা নদীতে তার মরদেহ ভেসে ওঠে।
লক্ষীকুন্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার শফিকুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার পর তিনজন নিখোঁজ হয়েছিলেন। দুইজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও ছাত্রদল নেতা রকি নিখোঁজ ছিলেন। তার সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত ছিল।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশাদুর রহমান বলেন, পদ্মার শাখা নদীতে একটি মরদেহ ভেসে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই মরদেহ নিখোঁজ ছাত্রদল নেতা রাকিবুল ইসলাম রকির বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।