চলে গেলেন অধ্যাপক সাঈদ-উর রহমান, রাষ্ট্রপতির শোক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. সাঈদ-উর রহমান বার্ধক্যজনিত কারণে আজ রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় ঢাকায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক বিশিষ্ট চিন্তক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. সাঈদ-উর রহমান-এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

মরহুম অধ্যাপক ড. সাঈদ-উর রহমানের নামাজে জানাজা আজ রবিবার বাদ-মাগরিব উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরের মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। পরে তাঁকে উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে দাফন করা হবে।

অধ্যাপক ড. সাঈদ-উর রহমান ১৯৪৮ সালের ২৬ মার্চ কুমিল্লা জেলার শিমপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৪ সালে কুমিল্লা জেলা স্কুল থেকে তিনি মাধ্যমিক এবং ১৯৬৬ সালে সিলেটের এমসি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৬৯ সালে তিনি বাংলায় স্নাতক (সম্মান) ও ১৯৭০ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭৫ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৮০ সালে ফরাসি ভাষায় ডিপ্লোমা করেন। ১৯৯১ সালে তিনি বাংলা বিভাগে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। ‘পূর্ববাংলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন ও সমকালীন কবিতা’ শীর্ষক অভিসন্দর্ভের জন্য ১৯৭৯ সালে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণে মধ্যযুগের সাহিত্য প্রসঙ্গে বিভিন্ন আলোচনা-সমালোচনামূলক প্রবন্ধ রচনা করেছেন তিনি। এছাড়া বাংলাদেশের আর্থসামাজিক-রাজনৈতিক ইতিহাস ও মার্কসবাদ তাঁর আগ্রহের ক্ষেত্র ছিলো। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো - চারু মজুমদার ও অন্যান্য প্রসঙ্গ (১৯৭৩), পূর্ববাংলার সাংস্কৃতিক আন্দোলন (১৯৮৩), পূর্ববাংলার রাজনীতি-সংস্কৃতি ও কবিতা (১৯৮৩) এবং এ কেমন বাংলাদেশ (১৯৯৮)। তাঁর সম্পাদিত বইয়ের মধ্যে আছে মার্কস ও মার্কসবাদীদের সাহিত্যচিন্তা (১৯৮৫)।

মুক্তিযোদ্ধাদের রাজনৈতিক প্রশিক্ষক হিসেবে ১৯৭১ সালে তিনি রণাঙ্গনে ছিলেন। ১৯৯২ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। গবেষণাকর্মের জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন পুরস্কার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আবদুর রব চৌধুরী স্বর্ণপদক অর্জন করেন। ২০০৩ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান।