সার প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী: ‘জাস্ট দুই-এক দিনের ভিতরে সব ঠিক হয়ে যাবে’

আগামী দুই এক দিনের মধ্যে সারাদেশে সার নিয়ে তৈরি হওয়া সংকট দূর হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, এটা যেহেতু প্রকৃত সংকট না, তৈরি করা হয়েছে। যার কারণে মনিটরিং টিম তৈরি করা হয়েছে। আশা করি, জাস্ট দুই-এক দিনের ভিতরে সব ঠিক হয়ে যাবে।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কৃষি মন্ত্রণালয় পরিদর্শন এবং এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা জানান।

বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ বলেন, সার নিয়ে কোনো বৈঠক ঐভাবে আসলে হয় নাই। তিনি বলেন, ঐদিন এক ভদ্রলোক, সাংবাদিক সাহেব, আমাকে রিং কইরা বললো, ভাই, শুনলাম এক জাহাজ সার নাকি আসছে? আমার শুইনা মনে হইলো অতীতে গত কয়েক বছর সার আসে নাই, অথবা এরপরে আগামীদিনেও আসবে না! ঘটনাটা তো এমন না।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমাদের কাছে এই মুহূর্তে যে পরিমাণ সার আছে, গত বছর এক্সাক্টলি এই দিনের তুলনায় ২ লক্ষ টন সার বেশি আছে। প্লাস, সারের নিয়মটাই হলো প্রতি সপ্তাহেই জাহাজ আসে। আমাদের একটা রিজার্ভ থাকে ১০ থেকে ১২ লক্ষ টন, কোনো কোনো সময় ঐটা ১৫ লক্ষ টনও করা হয় পিক সিজনের আগে। আর বাকি সময়টুকু প্রতিদিন, প্রতি সপ্তাহে এক বা একাধিক জাহাজ আসে। আমাদের চাহিদা অনুযায়ী ঐ আমদানিগুলি করা হয়।

তিনি বলেন, বাকি যেটা গুদামে রাখা হয়, ঐটা রিজার্ভ সার। এটা হলো জরুরি সময়ের জন্য। আল্লাহ না করুক, একটা জাহাজ ডুবে গেল, একটা জাহাজের সমস্যা হলো, তখন কী হবে? তখন যেন প্রবলেম না হয়, এই জন্য মিনিমাম দুই থেকে তিন মাসের মজুদ আমাদের কাছে থাকে।

এক প্রশ্নের জবাবে আমিন উর রশিদ জানান, সারের কোনো সংকট নাই। কিছু লোক চেষ্টা করছিল সারের ইচ্ছেকৃত ক্রাইসিস তৈরি করার। আপনি নিজেই দেখছেন, সার পাওয়া যাচ্ছে বর্ডারে, সার পাওয়া যাচ্ছে রাইস মিলে, সার পাওয়া যাচ্ছে অন্য গোডাউন ঘরে। ঐখানে তো সার থাকার কথা না! যারা এই কাজটা করেছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে করেছে। এখানে একটা সংকট তৈরি করার জন্য। মানুষ সচেতন হয়ে গেছে, আমরা প্রায় প্রতিটা উপজেলাতেই বা জেলা পর্যায়ে সার মনিটরিং কমিটি করে দিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী কৃষি মন্ত্রণালয়ের জন্য কী ধরনের নির্দেশনা দিয়েছেন জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ে যে কাজগুলি অতীতে হয়েছে, এখন হচ্ছে, আগামী দিনে হবে, এগুলি সম্পর্কে উনি জানতে চেয়েছেন। নতুন আরও কী কী যুক্ত করা যায় এবং আমরা কী কী যুক্ত করছি, দেশে কিসের ঘাটতি আছে, কী নিয়ে আমরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি, সবগুলি ব্যাপারেই উনি আলোচনা করেছে। সবটাই কৃষি সংশ্লিষ্ট।

তিনি বলেন, এটা আমাদের কৃষি মন্ত্রণালয়ের জন্য স্মরণীয় একটা সময় বা দিন। প্রধানমন্ত্রী আমাদের মিনিস্ট্রিতে এসে প্রায় দুই ঘণ্টার মতো অবস্থান করলো। এখানে আমাদের বিভিন্ন ডেভেলপমেন্ট, বিভিন্ন প্ল্যানিং, বর্তমান, অতীত এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা-এটা নিয়েই উনি একেবারে বিস্তারিত আলাপ করেছে। উনার কিছু মতামত দিয়েছে।