মানুষের প্রকৃত সৌন্দর্য প্রকাশ পায় তার চরিত্র ও আচরণে। সুন্দর চরিত্রের অন্যতম প্রধান ও শ্রেষ্ঠ বৈশিষ্ট্য হলো শালীনতা। ইসলাম শালীনতাকে মানুষের মর্যাদা ও সৌন্দর্যের গুরুত্বপূর্ণ অলংকার হিসেবে বিবেচনা করেছে। শালীনতা মানুষকে অশোভন বিষয় থেকে দূরে রাখে, ব্যক্তিত্বকে সংযত করে এবং সমাজে সৃষ্টি করে সম্মান ও সৌহার্দ্যরে পরিবেশ।
ইসলামে শালীনতার ব্যাপ্তি অনেক বিস্তৃত। এটি শুধু পোশাকের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। মানুষের কথা, দৃষ্টি, চলাফেরা, আচরণ এবং অন্যের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও শালীনতার শিক্ষা রয়েছে। একজন মানুষ কেমন পোশাক পরছে, কীভাবে কথা বলছে, অন্যের প্রতি কী ধরনের দৃষ্টি দিচ্ছে এবং নিজের আবেগ ও আচরণ কতটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে, এসবের মধ্যেই তার শালীনতার পরিচয় ফুটে ওঠে।
নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক দ্বীনের একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আর ইসলামের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হলো লজ্জাশীলতা।’ (ইবনে মাজাহ) লজ্জাশীলতা ও শালীনতা মানুষের ভেতরে এমন এক আত্মনিয়ন্ত্রণ সৃষ্টি করে, যা তাকে অন্যায়, অশ্লীলতা ও অসভ্যতা থেকে বিরত রাখে।
আজকের যুগে শালীনতার প্রয়োজন আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যম, বিনোদন ও নানা আধুনিক প্রবণতার প্রভাবে অনেক সময় অশালীন আচরণকে স্বাভাবিক কিংবা আধুনিকতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়। অথচ ইসলাম মানুষকে স্বাধীনতার নামে সীমালঙ্ঘন করতে শেখায় না। বরং স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্ববোধ এবং ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সংযমের শিক্ষা দেয়।
শালীনতা মানুষের দুর্বলতা নয়, বরং শক্তি। অশোভন ভাষা ব্যবহার না করে সুন্দরভাবে কথা বলা, রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা, অন্যের সম্মান রক্ষা করা এবং দৃষ্টি ও আচরণে সংযত থাকা একজন মানুষের উন্নত ব্যক্তিত্বের পরিচয় বহন করে। শালীন মানুষ নিজের সম্মান যেমন রক্ষা করে, তেমনি অন্যের মর্যাদার প্রতিও সচেতন থাকে।
পরিবার ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও শালীনতার ভূমিকা অপরিসীম। অশালীন কথা সম্পর্ক নষ্ট করে, অশোভন আচরণ মানুষের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করে। অন্যদিকে শালীনতা মানুষের হৃদয় জয় করে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বৃদ্ধি করে। একজন শালীন মানুষ তার উপস্থিতি, কথা ও আচরণের মাধ্যমে অন্যের জন্য স্বস্তির কারণ হয়ে ওঠে।
লেখক : ইসলামি গবেষক