দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেছেন, মানবিক গুণাবলি ও দক্ষতার সমন্বয়ে দেশের জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করলেই একটি জাতির সব অর্জন হয়ে যায় না। প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার পাশাপাশি মানুষের মানবিক গুণাবলি ও চিন্তার সক্ষমতা বিকশিত করতে হবে। আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর নভোথিয়েটারে এক অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন ।  

রোবটসহ আধুনিক প্রযুক্তির উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানুষকে শেষ পর্যন্ত মানুষই থাকতে হবে। মানুষের মানবিক গুণাবলি যদি হারিয়ে যায়, তাহলে শুধু যন্ত্র তৈরির জন্য শিক্ষাব্যবস্থা ও সামগ্রিক আয়োজন পরিচালনা করা ঠিক হবে না। তাই মানবিকতা ও দক্ষতা-দুই দিককেই গুরুত্ব দিয়ে জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, দেশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চর্চা হলেও প্রযুক্তির দিকে বেশি ঝুঁকে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে। প্রযুক্তিকে সব সমস্যার সমাধান হিসেবে দেখার কারণে বিজ্ঞানের মৌলিক চর্চা অনেকটা আড়ালে চলে গেছে। অথচ এ জনপদে অনেক বড় বিজ্ঞানী তৈরি হয়েছেন। বিজ্ঞান গবেষণা ও নতুন জ্ঞান সৃষ্টির সক্ষমতা বাড়ানো ছাড়া প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে স্বনির্ভর হওয়া সম্ভব নয়।

জোনায়েদ সাকি বলেন, সরকার ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি শিক্ষার মাধ্যমে শিশুদের প্রস্তুত করার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে প্রযুক্তি শিক্ষা যেন বই পড়া ও লেখার বিকল্প না হয়, সেদিকে নজর দিতে হবে। শিশুদের লেখাপড়া ও বই পড়া তাদের চিন্তাশক্তি বা কগনিটিভ বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তির ব্যবহার শিখতে হবে, একই সঙ্গে মানবিক ও মৌলিক শিক্ষাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় আলাদাভাবে শিক্ষা, প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনেক কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সমন্বয় নেই। একই ধরনের প্রকল্প বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হওয়ায় অর্থ ও সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে না।