পাঁচ বছরের প্রেম, বিয়ে নিয়ে বিরোধে প্রেমিকাকে হত্যা

গাজীপুরের জয়দেবপুরে ডোবার পানিতে ভাসমান সুটকেস ও প্লাস্টিকের বস্তা থেকে দ্বিখণ্ডিত ও অর্ধগলিত নারীর লাশ উদ্ধারের রহস্য উদঘাটনের করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্ক, বিয়ে নিয়ে বিরোধ ও জমে থাকা ক্ষোভে হত্যা করা হয়েছে এবং হত্যার পর পরিচয় গোপন করতে বটি ও ব্লেড দিয়ে মরদেহ কোমর থেকে দ্বিখণ্ডিত করে একাংশ সুটকেসে এবং অপর অংশ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন আসামিরা।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পিবিআই গাজীপুর জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তাররা হলেন প্রেমিক মিশন ইসলাম (২২) তার মা বানু আক্তার (৪৩) ও সহযোগী মিজানুর রহমান মিল্টন (২৪)।  তারা সবাই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন জানান পিবিআই।

নিহত ডলি আক্তার ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার পাহাড়পাবিজান গ্রামের বাদশা মিয়ার মেয়ে। স্বামী পরিত্যক্ত ডলি জয়দেবপুর থানার বানিয়ারচালা মেম্বারবাড়ী এলাকায় ভাড়া বাসায় একা থাকতেন এবং বাঘের বাজার এলাকার গোল্ডেন রিপিট গার্মেন্টসে সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন।

পিবিআই জানায়, গত ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে জয়দেবপুরের ভবানীপুর এলাকায় ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশের একটি খালে ভাসমান সুটকেস ও প্লাস্টিকের বস্তা থেকে এক নারীর দ্বিখণ্ডিত ও অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। এরপর পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও অন্যান্য তদন্তের মাধ্যমে একপর্যায়ে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। এঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, গার্মেন্টসে চাকরির সুবাদে মিশনের সঙ্গে ডলির পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় পাঁচ বছর ধরে তাদের সম্পর্ক চলছিল। গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে ডলি মিশনের বাসায় যান। সেখানে রাতে তারা একই কক্ষে অবস্থান করেন। বিয়ে নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে মিশন ডলিকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান। পরে লুঙ্গি ও বালিশ দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ গুমের পরিকল্পনায় মা বানু আক্তার যুক্ত হন। মরদেহ সুটকেসে না ধরায় বটি ও ব্লেড দিয়ে কোমর থেকে তা দ্বিখণ্ডিত করা হয়। পরে একাংশ সুটকেসে এবং অপর অংশ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরা হয়। এরপর বন্ধু মিজানুর রহমান মিল্টনকে ডেকে এনে, তার সহযোগিতায় অটোরিকশায় করে সুটকেস ও বস্তাটি ভবানীপুর এলাকায় ব্রিজের ওপর নিয়ে খালের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় গত ১২ সেপ্টেম্বর নিহতের ভাই সোহেল বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন। পরে পিবিআই তদন্তের ধারাবাহিকতায় মিশন ইসলাম, তার মা বানু আক্তার ও মিজানুর রহমান মিল্টনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিশনের বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটি, নিহত ডলির পরিচয়পত্র, মুঠোফোন ও জুতা উদ্ধার করা হয়।