মরণোত্তর দেহ দান করলেন নবীগঞ্জের লিটন দাশ

হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে শিক্ষা ও গবেষণা কাজে ব্যবহারের জন্য মরণোত্তর দেহদান করেছেন নবীগঞ্জর লিটন দাশ তালুকদার।

লিটন দাসের দুইটি কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘ দিন ধরে চিকিৎসাধীন গত রবিবার নবীগঞ্জের শিবপাশায় গ্রামে নিজ বাড়ীতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি ছাত্র জীবনে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আদর্শে অনুপ্রাণিত ছিলেন। তার পরিবারের সদস্যরা জানান লিটন দাশ বিশ্বাস করতেন মৃত্যুর পরে তাঁর দেহটি না জ্বালিয়ে বা না পঁচিয়ে যদি মানব কল্যাণে ব্যবহার হয় তাহলেই জীবন স্বার্থক হবে।

তাঁর দেহ ও বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গবেষণা করে অনেক মেডিকেল শিক্ষার্থী বড় ডাক্তার হয়ে সমাজের চিকিৎসা সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পারবে। এতে মানবজাতি অনেক উপকৃত হতে পারে। তাই সামাজিক বিভিন্ন বাস্তবতাকে অতিক্রম করে এমন সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনিই প্রথম হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষা ও গবেষণা কাজের জন্য মরনোত্তর দেহ দান করলেন। তিনি পিতা মৃত দ্বিজেন্দ্র দাশ তালুকদার, মাতা রেখা রানী দাশের ছেলে।

লিটন দাশ মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন বুঝতে পেরে গত ১৩ আগস্ট নোটারী পাবলিকের  মাধ্যমে তাঁর মৃত দেহ যেন হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণা কাজে ব্যবহৃত হয়, এই মর্মে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে ঘোষণা পত্রটি হস্তান্তর করেন।

রবিবার সকালে লিটন দাশের মৃত্যুর খবর পাওয়ার সাথে সাথে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ,অধ্যাপক ডা. জাবেদ জিল্লুল বারি,এনাটমি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা.সুপার্থ ভট্টাচার্য্য, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট প্রশান্ত চন্দ্র দেব,হিসাব রক্ষক সূর্য লাল রায়,ক্যাশিয়ার নারায়ন পাল, লিটন দাশের বড় ভাই দিপু দাশ,বাসদ হবিগঞ্জ জেলার সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম ও এডভোকেট সবুজ দাশ ছুটে যান।

জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের  অনুমতিসহ  আইনী প্রক্রিয়া সম্পাদন  শেষে রাতে  লিটন দাশের বড় ভাই দিপু দাশ ও তাঁর আত্মীয় স্বজনরা মৃত দেহটি হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন। উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ বলেন,লিটন দাশের এমন পরোপকারী সাহসী সিদ্ধান্ত আমাদেরকেও মানবিক হওয়ার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা জোগাবে।